যীশুখ্রীস্টের নাম করলে সব অসুখ সেরে যাবে, রোগব্যাধি থাকবে না, সংসারে সুখ শান্তি উপচে পড়বে, গ্রামের হিন্দুদের এই অপব্যাখ্যার দ্বারা খ্রিস্টানে ধর্মান্তকরণ করছিলেন মিশনারীরা। এলাকার বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে তাদের কে “গীতা” পাঠ করালেন হিন্দু সংহতির ছেলেরা।

একমাত্র হিন্দু সংহতির পক্ষেই সম্ভব:-
ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত নসরতপুর অঞ্চলের নিংড়ে গ্রাম। সমুদ্রগড় রেল স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার। কালনা এবং তার আশপাশের কিছু এলাকা থেকে খ্রিস্টান মিশনারীরা প্রতি শনিবার করে ওই গ্রামে এসে খ্রিস্ট ধর্মের মহিমা প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। বিশেষ করে হিন্দু মহিলাদের কাছে। তাদের বোঝাচ্ছিল যে যীশুখ্রীস্টের নাম করলে সব অসুখ সেরে যাবে। রোগব্যাধি থাকবে না। সংসারে সুখ শান্তি উপচে পড়বে, ইত্যাদি ইত্যাদি। পাড়ার অনেক যুবক এবং কিছু বয়স্ক ব্যক্তি তাদের বারংবার নিষেধ করছিলেন। অনুরোধ করছিলেন যেন অপব্যাখ্যার দ্বারা এই ধর্মান্তকরণের অপচেষ্টা তারা না করে। কিন্তু ওরা কারও কথায় কর্ণপাত করে নি। ওদের কাজ ওরা চালিয়েই যাচ্ছিল। হিন্দু থেকে খ্রীষ্টান করার কাজ। এবার ওই এলাকার ছেলেরা যোগাযোগ করে সমুদ্রগড়ের হিন্দু সংহতির ছেলেদের সাথে। হিন্দু সংহতির ছেলেরা গত শনিবার ওই এলাকায় গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টা বুঝতে পারে ওরা আগেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আজকে হিন্দু সংহতির ছেলেরা বহু আগে থেকেই ওই এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। এদিক ওদিক ইতস্তত ছড়িয়ে পজিশন নেয়। ওরা ঢুকতেই হিন্দু সংহতির ছেলেরা ওদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর জিজ্ঞেস করে কিভাবে যীশুখ্রীষ্টের নামে অসুখ সারে ? তাহলে খ্রীষ্টান দেশগুলিতে হাসপাতাল থাকার কি প্রয়োজন ? হিন্দু সংহতির ছেলেদের কোন প্রশ্নের উত্তর ওরা দিতে পারেনি। তারপর ওদের ওখানে বসিয়ে রেখেই হিন্দু সংহতির উদ্যোগে এলাকার বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে গীতা পাঠ হয়। পাঠ করেন হিন্দু সংহতির সমুদ্রগড়ের বিশিষ্ট কার্যকর্তা প্রতাপ সরকার। যেখানে পার্থসারথি শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় , পরধর্মো ভয়াবহ। পরিষ্কার ভাষায় হিন্দু সংহতির ছেলেরা যিশুখ্রিস্টের নামে রোগ সারে বলে প্রচার করা ওই মিশনারীদের বুঝিয়ে দেয় এরপর আসলে কিন্তু ফল ভালো হবে না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেমন বলেছেন, স্বীয় কর্মফল ভোগের কথা, সেই রকম কিন্তু এরপর এই ধর্মান্তকরণের অপচেষ্টা চালাতে ওই এলাকায় আসলে কিন্তু সেইরকম কর্মফল ভোগ করতে হবে।ওরা বুঝে যায় যে এবার শক্ত পাল্লায় পড়েছে।ওই এলাকায় আর না আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনরকমে এলাকা ছাড়ে । ওই এলাকার বাসিন্দারা সমবেতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে ওখানে নিয়মিত ভাবে এরপর থেকে গীতা পাঠ হবে। যে গ্ৰন্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলছেন, যুদ্ধ করাই তোমার স্বধর্ম। যুদ্ধ করো।
তস্মাদ্ উত্তিষ্ঠ কৌন্তেয়ঃ যুদ্ধায় কৃতনিশ্চয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s