অবশেষে শিবু রাজবংশীর জামিন করানো সম্ভব হয়েছে। হিন্দু সংহতির নিরলস প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

হিন্দু সংহতির সক্রিয় কার্যকর্তা শিবু রাজবংশী পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড় স্টেশন সংলগ্ন টোটো স্ট্যান্ডের একজন টোটো চালক। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ইউনিয়ন থেকে তাকে ওই স্ট্যান্ডে টোটো দাঁড় করাতে দিচ্ছিলো না। গত ১ লা জুলাই স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গোয়ালপাড়া মোড়ে যাত্রী নিয়ে যাবার সময় শিবুকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য কটুক্তি করে ইউনিয়নের নেতা অভিজিৎ মিস্ত্রী। এটাও বলে যে শিবুকে যাত্রী নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। দুজনের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। হিন্দু সংহতির কার্যকর্তা শিবুকে পেটাবার সুযোগ পেয়েছে এই মনে করে অভিজিৎ মিস্ত্রীর পক্ষ হয়ে লড়তে আসে এলাকার একসময়ের দাপুটে কংগ্রেস নেতা শওকত খানের দুই ভাগ্নে বাবলা খাঁন ও মিঠু খাঁন। মানে শিবুর বিপরীতে তিনজন। কিন্তু সপ্তাহে একদিন করে শূয়োরের মাংস খাওয়া শিবুর শারীরিক শক্তির কাছে ওরা বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারে নি। পুলিশের কাছে ওদের পক্ষের হয়ে দায়ের করা অভিযোগে ওই টোটো ইউনিয়নের আরেক নেতা বীরেন ঘরামি লেখে যে শিবুর হাতে ওরা প্রচন্ড মার খেয়েছে। ৯ তারিখে ইচ্ছাকৃতভাবে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা না দেওয়া নাদনঘাট থানার পুলিশ ১৬ তারিখে কালনা কোর্টে যে ইনজুরি রিপোর্ট জমা দেয় তাতে উল্লেখ করে যে শিবুর প্রচন্ড প্রহারে ইউনিয়ন নেতা অভিজিৎ মিস্ত্রী মাথায় আঘাত পেয়েছে এবং তার পায়ের হাড় ভেঙ্গে টুকরো হয়ে গিয়েছে। ১ লা জুলাই শিবুর গ্ৰেপ্তার হবার সংবাদ পেয়েই হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য্য জানিয়ে দিয়েছিলেন যে শিবুর জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা হিন্দু সংহতি করবে। সেইসঙ্গে জামিন না হওয়া পর্যন্ত শিবুর পরিবারের সম্পূর্ণ খরচ হিন্দু সংহতি বহন করবে। কালনা কোর্টের প্রবীণতম আইনজীবি গৌতম গোস্বামীকে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে নিয়োগ করা হয়। ১,৯,১৬ জুলাই, এই তিনদিন পুলিশ কোর্টে জামিন নাকচ হয়। গৌতমবাবুকে বলা হয় পুলিশ কোর্টের পরবর্তী তারিখের জন্যে অপেক্ষা না করে জাজেস কোর্টে আবেদন করতে। সেই অনুযায়ী ২৩ তারিখে সেখানে শুনানি হয়। কিন্তু সেইদিন সমুদ্রগড়ে একটি বড়ো পথ দুর্ঘটনা ঘটে।সেই কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে ইনজুরি রিপোর্ট আসে নি। হিন্দু সংহতি দমে যায় নি। কলকাতা থেকে কেন্দ্রীয় স্তরের কার্যকর্তারা কালনা কোর্টে এবং সমুদ্রগড়ে শিবুর বাড়ীর সাথে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলতে থাকেন। পুনরায় দিন ধার্য হয় ২৬ শে জুলাই মানে আজ। অবশেষে আজকে সফলতা এসেছে। শিবু রাজবংশীর জামিন করানো সম্ভব হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়া মাত্রই সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের মালা দিয়ে মিষ্টিমুখ করিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সংগঠনের কার্যকর্তারা তার বাড়ীতেও পৌঁছে তাকে অভিনন্দন জানান। আমরা আজ তৃপ্ত, আনন্দিত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s