বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থে ভারতে বসবাসকারী হিন্দু বাঙালি উদ্বাস্তুদের উচিত বাংলাদেশের চার জেলাকে ভারতের অন্তর্ভূক্তির দাবি তোলা’

অমিত মালী 

bangladesh_divisions_bengali.pngএ কথা কারওর অজানা নয় যে, ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল। ভারত ভাগ হয়ে সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তানের- পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান । ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৮% । কিন্তু পরবর্তীকালে কি দেখলাম? ইতিহাস সাক্ষী, ৭১-এর মুক্তি যুদ্ধের সময় এবং তারপরে আজ পর্যন্ত লাগাতার হিন্দু নির্যাতন এবং হিন্দু বিতাড়ন ।মুসলিমদের অত্যাচারে আজ বাংলদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমতে কমতে ৮% এর নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ সারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলছে নির্মম অত্যাচার- মুসলিমদের কাছে যা হলো পবিত্র জিহাদ- জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ । সে জিহাদ বড়ই ভয়ঙ্কর- হিন্দুর জমি দখল, হিন্দু খুন, হিন্দু নারী ধর্ষণ, হিন্দুর মন্দির ভাঙচুর, হিন্দু কন্যা অপহরণ ও জোর করে ইসলামে ধর্মান্তকরণ – অবাধে চলছে ।নেই কোনো সুবিচার। হিন্দুর মসিহা বলে পরিচিত শেখ হাসিনাও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ । বাংলাদেশের হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের রিপোর্টে উঠে এসেছে সেই তথ্য। মূলত শহর অঞ্চলের হিন্দু অল্প ভালো আছে, কিন্তু গ্রামের হিন্দুদের অবস্থা ভয়াবহ । এমতবস্থায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কি কর্তব্য? সেটাই এই প্রবন্ধে উল্লেখ করছি ।

দেশভাগের ফলে প্রচুর হিন্দু বাংলাদেশে থেকে গিয়েছিল, কারণ সেই সময় পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র হলেও ভারত কিন্তু হিন্দু রাষ্ট্র হয়নি । সেই কারণে ভারতে বিশাল সংখ্যক মুসলিম থেকে যায়। জন বিনিময় না হওয়ার ফলে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় হিংস্র বর্বর জিহাদিদের খপ্পরে থেকে যেতে বাধ্য হয়। তাই ভারতের পূর্ব প্রজন্মের করে যাওয়া পাপের ফল ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে । তাই বাংলাদেশের নিপীড়িত, অত্যাচারিত হিন্দুর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব কখনো এড়িয়ে যেতে পারে না ভারত রাষ্ট্র ।
তাই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারে একমাত্র ভারত – এই ধারণা বাংলাদেশের অত্যাচারিত হিন্দুদের মনে স্থায়ী । তাইতো অত্যাচারিত হিন্দু নিজের পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি, ঘর-বাড়ি ছেড়ে ভারতে চলে আসছে । তাই বাংলাদেশের হিন্দুদের সার্বিক কথা চিন্তা করে ,ভারতের উচিত বাংলাদেশের তিনটি জেলা যশোর, খুলনা, পার্বত্য চট্টগ্রাম  এবং রংপুর দখল করে নেওয়া । কারণ লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসছে।তাদের বাসস্থানের জন্য জমি দরকার ।সেই জমির যোগান দেওয়া দরকার বাংলাদেশের মাটি দখল করে।কারণ বাংলাদেশের হিন্দুর জনসংখ্যা ২৮% ছিল, তাই দেশ দেওয়া হয়েছিল। এখন হিন্দু জনসংখ্যা যেহেতু কমে ৮% এবং কমে যাওয়া জনসংখ্যার সিংহগাভাগই ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাই ভারতের উচিত বাংলাদেশের মাটি দখল করে নেওয়া। এই তিনটি জেলা কেন দখল করে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি ।
প্রথমত, যশোর জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর পাশেই এবং হিন্দু অধ্যুষিত । যশোর জেলার আশেপাশের কয়েকটি জেলার হিন্দুদের উচিত জমি-বাড়ি বিক্রি করে যশোরে বসতি স্থাপন করা ।ফলে যশোরে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হিসেবে পরিণত হবে ।
দ্বিতীয়ত, খুলনা দখল করে নেওয়া উচিত ভারতের ।কারণ দেশভাগের সময় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা ছিল খুলনা। কিন্তু সেইসময় ফারাক্কা বাঁধ এবং গঙ্গার জলের জন্য খুলনা পাকিস্তানকে দিয়ে তার পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় । ফলে খুলনার হিন্দু জনগণকে বর্বর জিহাদিদের মুখে পড়ে যেতে হয় । একইরকম ভাবে খুলনার আশেপাশের হিন্দু জনতার উচিত খুলনায় এসে স্থায়ী বসতি স্থাপন করা এবং খুলনাকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাতে পরিণত করা ।
তৃতীয়ত, রংপুর জেলাও দখল করে নেওয়া উচিত। বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত রংপুর বরাবরই উর্বর ভূমি এবং তামাক চাষের জন্য বিখ্যাত । রংপুরে যদি বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের বিভিন্ন জেলার হিন্দুরা এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে এবং রংপুরকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাতে পরিণত করে, ফলে হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে ।
চতুর্থত, পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল করে নেওয়া উচিত ভারতের। দেশভাগ হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ চট্টগ্রামের নিরীহ আদিবাসী হিন্দুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে বাংলাদেশের বর্বর সেনা ও মুসলমান সমাজ। তাদেরকে মুক্ত করে ত্রিপুরার সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের হিন্দু তীর্থস্থান সীতাকুণ্ড হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। সেই তীর্থস্থান রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।
এই কাজ যদিও কঠিন একটি কাজ, কিন্তু অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের সমস্ত হিন্দু সমাজ, ধর্মীয় সংগঠন এবং যে সমস্ত প্রবাসী হিন্দুরা বাংলাদেশ ছেড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত , তাদেরকে সর্বশক্তি দিয়ে এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে । হিন্দু সমাজের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে ।বাংলাদেশের হিন্দু যদি প্রস্তুত হয়, তাহলে ভারতের হিন্দু এবং জাতীয়তাবাদী সরকারকে পাশে পাবে ।আর এই কাজ যদি সফল না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য হবে এবং সেইসঙ্গে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থানগুলি। শুধু ইতিহাসের পাতায় পড়ে থাকবে পূর্ব বঙ্গ নামক এক বিলীন হয়ে যাওয়া ভূমির কথা।

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s