বীরভূমে জিহাদি মুসলমানের তান্ডব, হিন্দুদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি; হিন্দুর দোকান ভাঙচুর ও লুঠপাট

আবার জিহাদি মুসলমানদের হাতে আক্রান্ত হলো বীরভূমের সিউড়ির হিন্দুরা। জিহাদি মুসলমানরা নির্বিচারে হিন্দুদের বাড়িঘর, দোকানে ভাঙচুর ও লুঠপাট চালালো। সেইসঙ্গে চললো দেদার বোমাবাজি। জিহাদি মুসলমানদের তান্ডবের সামনে রীতিমতো অসহায় দেখালো পুলিসকে। গত ৯ই মে, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত পুরন্দরপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পুরন্দরপুর থেকে বোলপুর যাওয়ার রাস্তায় একটি লরির সাথে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে এবং মোটরসাইকেল-আরোহী দুজন মারা যায়। তারপর থেকেই এলাকাবাসীরা সতর্কতামূলক কিছু পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায় ওই রাস্তায় প্রায়দুর্ঘটনা হয়, তাই প্রশাসন থেকে সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ৮ টা পর্যন্ত ছয় চাকার থেকে শুরু করে কোনো বড়ো গাড়ী ওই রাস্তায় প্রবেশ করবেনা, এই রকম নিয়ম জারি করে। সেই মতো নো এন্ট্রি বোর্ড লাগানো হয়।  সকাল ৬টা থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত বড়ো  গাড়ী চলাচল বন্ধ হওয়ায় পুরন্দরপুর এর আশেপাশে মুসলমানদের ছিল বিশাল আপত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, এলাকার মধ্য দিয়ে বড়ো বড়ো গাড়ি করে বালি, পাথর ইত্যাদি অন্য জায়গায় যেত। আর ঐসব গাড়ি থেকে মুসলমানরা তোলা আদায় করতো। কিন্তু বড় গাড়ি চলাচল এলাকার হিন্দু ছেলেরা বন্ধ করে দেওয়ায় মুসলিম তোলাবাজদের আয়ের উৎসে টান পড়েছিল। তাই মুসলমানরা ক্ষুব্ধ ছিল পুরন্দরপুরের হিন্দু বাসিন্দাদের ওপর।

সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে বৃহস্পতিবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ঐদিন অর্থাৎ ৯ই মে,  বৃহস্পতি বার সকাল বেলা থেকে পুরন্দরপুর এলাকাবাসী পুরন্দরপুর থেকে বোলপুর যাওয়ার রাস্তায় বেশ কিছু বাম্পার তৈরি করে। এছাড়াও সেই এলাকার কিছু ছেলে যারা জোরে গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছিল এবং ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালিয়ে যারা ওই রাস্তাদিয়ে  যাচ্ছিল তাদের দাঁড় করিয়ে সাবধান করছিল এবং কিছুজনকে কান ধরে উঠবস করায়।  আর এই কান ধরে উঠবস করার ঘটনাটি ভাইরাল হয়।বিকালে ওই রাস্তায় নো এন্ট্রি নিয়ে ওই এলাকায় প্রশাসনিক একটি বৈঠক হয় এবং কোন ধরে উঠবস করানোর ঘটনাটি সামনে এলে ওই ছেলেদের বারণ করা হয়।
কিন্তু এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে এলাকার মুসলিমরা রাতে হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই দিন রাত্রি ৮ টার দিকে হঠাৎই কয়েকশো জিহাদি মুসলমান পুরন্দরপুর বাজারে এসে হিন্দুদের লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে শুরু করে। বোমাবাজিতে মুহূর্তের মধ্যে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বাজারের মধ্যে আসা মানুষজন ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। তারপর মুসলিমরা বাজারের একের পর এক হিন্দু দোকানে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৩৫টির বেশি দোকানে ভাঙচুর চালায় মুসলমানরা। স্থানীয় কিছু হিন্দু যুবক প্রতিরোধ করতে রাস্তায় নামে। তাতে মুসলিমদের সঙ্গে অল্প সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে পুলিসবাহিনী RAF নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। বর্তমানে এলাকায় RAF মোতায়েন থাকলেও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি এলাকা পরিদর্শনে যায় এবং এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং আক্রান্ত হিন্দু বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। সেইসঙ্গে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে এলাকার হিন্দু বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s