বলিউডের ইসলামীকরণ

  • – অমিত মালী 

 

ভারতবর্ষের হিন্দি সিনেমা বলিউড নামে পরিচিত, যা এতদিন ভারতবর্ষের সাধারণ থেকে ধনী এলিট শ্রেণীর জনগণকে আনন্দ দিয়ে এসেছে। সত্যিই আজকের দিনে বলিউড একটি শক্তিশালী  মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে বলিউড ভারতের হিন্দুদের পিছনে যে বাঁশ দিয়ে আসছে  এবং তা আমাদের হিন্দুদের অজান্তে,অনেকের প্রতিভা থাকা সত্বেও হিন্দুদেরকে বঞ্চনা করা হয়েছে, অনেক হিন্দু অভিনেতা ও অভিনেত্রী ও গায়িকা মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে,হিন্দি সিনেমার গানের মধ্য দিয়ে উর্দু ভাষা ও ”আল্লা”  শব্দটিকে ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে, সেটাই এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়।

হিন্দি সিনেমার কথা যখনই আলোচনা করা হয়- তা সে খবরের কাগজ বা টিভি চ্যানেল হোক, প্রথম যে কথাটা উঠে আসে ( এটা  মাঝে মাঝে হেডলাইনও হয়) যে বলিউড শাসন করছে তিন খান। তিন খান বলতে শাহরুখ খান, সলমান খান এবং আমির খান। এই তিন খান দীর্ঘ বছরে তাদের সিনেমার মধ্য দিয়ে ভারতের মানুষের মধ্যে মুসলিম ধারা ও তাদের সংস্কৃতি, মুসলিমদের পক্ষে এবং হিন্দুদের বিশাল ক্ষতি করে এসেছে এবং এখনো পুরো মাত্রাতে করছে। এরা  ছাড়াও বলিউডের বেশ কয়েকজন প্রযোজক যারা সিনেমা তৈরিতে টাকা দেয় যেমন মহেশ ভাট( নাম হিন্দুর মতো হলেও একজন মুসলিম), সাজিদ নাদিদওয়ালা প্রভৃতি। এছাড়া সংগীত পরিচালক সেলিম মার্চেন্ট ও তার ভাই সুলেমান মার্চেন্ট, আনিস বাজমি,লাকি আলী,অনু মালিক ও আরো অনেকে।

প্রথমে এই তিন খানের কোথায় আসা যাক। তিন খানের সবাই হলো এক একটা ”লাভ জিহাদি”  এবং এরা  ভারতের লক্ষ্য লক্ষ্য লাভ জিহাদির কাছে একটি প্রেরণা এবং তারা নিঃসন্দেহে এদেরকে অনুসরণ করে।শাহরুখ খান গৌরীকে বিয়ে করে তাকে মুসলমান বানিয়ে দিয়েছে এবং তার ছেলে মেয়ে সকলে মুসলিম হয়েছে। মুখে হাজারবার আমি মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়নি বললেও,আমি বাড়িতে হিন্দুধর্ম মেনে চললেও, গৌরী খান তার তিন ছেলেমেয়ের একজনের নামও হিন্দু নাম দিতে পারেনি। তারপর শাহরুখ খান তার অভিনীত সিনেমার মধ্য দিয়ে মুসলিম চরিত্রগুলিকে বড়ো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। একটি সিনেমা হলো ”মাই নেম ইজ খান”। সলমন খানও লাভ জিহাদের চেষ্টা চালিয়ে এসেছিলো দীর্ঘদিন থেকে। প্রথমে ঐশ্চর্যা রাই, তারপর সোনাক্ষী সিনহা। কিন্তু কোনোটিই সফল হয়নি। তারপর সলমন খান মুসলিম উম্মাহ-কে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করলো তার ‘সুলতান’ সিনেমায়। তিনি এই সিনেমায় দেখালেন যে এক মুসলিম কুস্তিগীর হরিয়ানা থেকে  বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু বাস্তবে কি দেখা যায় ?  আজও পর্যন্ত হরিয়ানা থেকে একজনও মুসলিম কুস্তিগীর  আসেনি। কারণ সবাই জানে ভারতের মুসলিমরা মাওলানা-মৌলবী বা কাজী হয়, কুস্তিগীর নয়।

তবে একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে কারওর অজানা নেই যে বলিউডে মুসলমান ডন দাউদ ইব্রাহিম-এর টাকা ঘুরপথে ব্যবহার করা হয়। আর সেই টাকাতে এতবছর বলিউডের ইসলামীকরণ হয়ে চলেছে ; যদিও ED অনেক তদন্ত করে তার কোনো হদিস পায়নি। দাউদের বোন হাসিনা পার্কার-যে দাউদের অনুপস্থিতিতে মাফিয়া রাজত্ব চালিয়ে গিয়েছে, তাঁর নামে সিনেমা বানানো হলো এবং হাসিনা পার্কারকে নির্দোষ হিসেবে দেখানোহলো। বলিউডের প্রযোজকদের মধ্যে ইসলামিক মানসিকতা ও  পাকিস্তানের প্রতি  ভালোবাসা অতিরিক্ত বেশি।বলিউডের প্রথম সারির প্রযোজকদের মধ্যে মহেশ ভাট ও সাজিদ-ওয়াজিদ নাদিদওয়ালা বিখ্যাত মহেশ ভাট নিজে পূজা বেদিকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করেছে। তারপর নিজের ভাগ্নে ইমরান হাশমিকে সিনেমাতে নামিয়েছে। ইমরান হাশমি  কিছুটা জোকার-এর মতো দেখতে। একের পর এক ছবিতে তাকে সুযোগ  দেওয়া হয়েছে মহেশ ভাট -এর প্রযোজনায়।পর পর বেশ কয়কটি ছবি ফ্লপ করলেও পরে আবার সে মহেশ ভাট-এর প্রযোজনাতে সিনেমাতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছে একসময় ছবি হিট করানোর জন্যে  ছবিগুলিতে অতিরিক্ত সেক্স ঢোকানো হয়। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে তার প্রতিটা সিনেমার বিপরীতে হিন্দু নায়িকা। ভাবটা এইরকম যে আমরা আমাদের মেয়েকে ঢেঁকে রাখবো, কিন্তু হিন্দু মেয়েদের  সেক্স-এর অভিনয় করাবো। তাতে সিনেমাগুলি বেশ কিছুদিন চললেও বেশিদিন টেকেনি।কিন্তু হিন্দু অভিনেতা রণবীর সিং-এর একের পর এক সিনেমা ‘ব্যান্ড বাজা বারাত”, ”লেডিস ভার্সাস রিকিবহল”, ”গুণ্ডে”, ”বাজিরাও মাস্তানি”, ”পদ্মাবত” আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা সুপারহিট করলেও মহেশ ভাট-এর ব্যানারে সিনেমা করার সুযোগ পাননি। একটা ছবি করার জন্য যে রণবীর সিং-এর মত প্রতিভাবান অভিনেতাকে অপেক্ষা করতে হয় কখন হিন্দু প্রযোজক-পরিচালক রামগোপাল বর্মা বা সঞ্জয় লীলা বনশালীর কাছ থেকে অভিনয়ের ডাক আসবে।তারপরতো মহেশ ভাট এখন তার মেয়ে আলিয়া ভাটকে, 

যার মুখে এখনো বাচ্চা মেয়ের ভাব এখনও কাটেনি, সিনেমাতে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে ব্যাস্ত । পিতার দয়ায় হিন্দু অভিনেত্রী শাসিত বলিউডে সে  দ্রুত উঠে আসছে উপরের দিকে । যদিও ইমরান হাশমিকে ফিরিয়ে আনার একটা চেষ্টা ”আজহার (২০১৬)” সিনেমা দিয়ে করা হয়েছিল। এখানে সেই মুসলিম উম্মাহ-কে তুলে ধরাই  প্রধান উদ্দেশ্য। সিনেমাতে দেখানো হল সংগীতা বিজলানিকে বিয়ে করা, ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা, আজহার উদ্দিন  জাতীয় নায়ক-   এটা ভারতের জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু হাজার চেষ্টা সত্বেও, সিনেমাটা চলেনি একদম। এখানে মহেশ ভাট-এর প্রযোজনাতে হায়দার(২০১৪) সিনেমার কথা না বললেই নয়। এই সিনেমাতে কাশ্মীরের মুসলিমদের ওপর ভারতীয় সেনার অত্যাচার, তার ফলে এক কাশ্মীরি মুসলিম যুবকের পাগল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখানো হলো। পরিষ্কার ভাবে ভারতের সাধারণ  কাছে আমাদের দেশের গর্ব সেনাবাহিনীকে ছোট করে দেখানো হল। এই সিনেমাতে একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছিল যা হিন্দু ধর্মের অপমান। এই সিনেমার একটি দৃশ্যে কাশ্মীরের সূর্য মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ  দেখানো হয়েছিল। ওই দৃশ্যে পাগল হায়দার মন্দির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার সময় বলছে যে ওখানে নাকি শয়তানের বাস, ওখানে আগুন জ্বলছে, ওই শয়তান তার বাবাকে লুকিয়ে রেখেছে। পাগল হলেও কি হবে , মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে একজন জিহাদির মতো।  তারপর মহেশ ভাট ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে আসছেন যে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা ওখানকার স্থানীয় মুসলমানের ওপর অত্যাচার করছে, সাধারণ জনগণের মানবধিকার হরণ করছে। কিন্তু একজন সেনাও যে মানুষ এবং তারও যে মানবধিকার আছে সেটা ভুলে গেছেন মৌলবাদী মানসিকতার চাপে। বলিউডের আর এক অভিনেতা হৃত্তিক রোশনের কথা ভাবলে হিন্দুদের বঞ্চনার কথা আমার চোখের সামনে জলের মতো পরিষ্কার হয়। একজন অভিনেতা হওয়ার সব গুন তার মধ্যে থাকা সত্বেও  নতুন ছবি করতে হলে  পিতা  রাকেশ রোশনের প্রযোজনার ওপর নির্ভর করতে হয়। একজন আদর্শ অভিনেতা হবার সব গুন যেমন লম্বা, সুঠাম শরীর, অভিনয়ের দক্ষতা থাকা সত্বেও বলিউডের পাকিস্তান প্রেমী প্রযোজকদের নজর কোনোদিন এর ওপর পড়েনি। ”ধূম ২”  সুপারহিট হলেও কোনো এক অজানা কারণে ”ধুম ৩” থেকে বাদ পড়তে হয়। তার বদলে ধূম ৩ তে আমির  খানকে নেওয়া হলো। পুরো ছবিতে আমির খানকে একবারের জন্যেও নায়ক বলে মনে হয়নি-যেন একজন জোকার। কারণ নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফ অনেক লম্বা আমির খানের থেকে, তাই পুরো সিনেমাতে একবারের জন্যেও দুজনের একটিও ক্লোজ সিন্ দেখানো হয়নি। তারপর অনেক অপেক্ষা করার পর তার পিতার  প্রযোজনাতে হৃতিক রোশন ”ক্রিস ২” সিনেমাতে অভিনয় করলেন। সিনেমা হিট করলো, কিন্তু তা সত্বেও পাকিস্তান প্রেমী কোনো প্রযোজকের কাছ থেকে নতুন সিনেমা করার ডাক পেলেন না। এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে শুধুমাত্র হিন্দু  হবার কারণে ঋত্বিক রোশনের প্রতি এই বঞ্চনা। তাছাড়া ঋত্বিক রোশন বলিউডের একমাত্র অভিনেতা যে একজন মুসলিম সুজান খানকে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে করেছে। তাই তাঁর ওপর ক্ষোভ থাকাই স্বাভাবিক। কারণ এই প্রযোজকেরা প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত হিন্দু অভিনেতাকে বাদ দিয়ে সইফ আলী খান-এর মতো ফ্লপ অভিনেতা, আরশাদ ওয়ারসি-এর মতো আনকোরা অভিনেতা, পাকিস্তান-এর অভিনেতা ফাওয়াদ খান, আলী জাফরকে নিয়ে একের পর এক সিনেমাতে অভিনয় করিয়েছেন। পুরো দুই  বছর অপেক্ষা করার পর ২০১৭তে পিতার প্রযোজনাতে ”কাবিল” ছবিতে একজন অন্ধ ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করলেন। কিন্তু ঠিক একই দিনে আর মুসলিম শাহরুখ খানের ”রইস ” মুক্তি পেলো। এই সিনেমাতে শাহরুখ খান একজন মুসলিম ডন-এর ভূমিকায় অভিনয় করলেন, যে ডন অনেক হিন্দু ব্যবসায়ীদের ঠেকে তোলাবাজি করে,হিন্দু ডনকে খুন করে সে তার রাজ্ কায়েম করে। পুরো দেশের মানুষের মধ্যে এই ধারণাকে জোরদার করা হলো যে মুসলিমরা শুধু ডন হয়। শাহরুখ খান এই সিনেমাতে তার জন্যে ভারতে একটাও নায়িকা পেলেন না, পাকিস্তান থেকে মাহিরা খানকে নিয়ে এসে অভিনয় করালেন। এটা একটা চেষ্টা বলিউডের হিন্দু নায়িকাদের প্রাধান্য কমানোর।  সবথেকে যে ব্যাপার তা অবাক করে যে বেশ কয়েকবছর শাহরুখ খান মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করছেন। তিনি ”মাই নেম ইজ খান” সিনেমাতে দেখালেন মুসলিমরা কত হেনস্তার শিকার হয়। এর দ্বারা তিনি মুসলিম জনমানসে মুসলিম ‘উম্মাহ’ জাগিয়ে তোলার  কাজ করলেন। অনেক লেখালেখি ও প্রচার সত্বেও এই সিনেমা ফ্লপ করল। কিন্তু ঋত্বিক রোশনের কাবিল সিনেমা কিন্তু সুপারহিট হলো।

লিউডে হিন্দু অভিনেত্রীদের প্রাধান্য  বরাবর। রানী মুখার্জী, মাধুরী দীক্ষিত, কাজল, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাডুকোন, ঐশ্চর্য রাই,বিদ্যা বালান , কঙ্গনা রানাউত, অনুষ্কা শর্মা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্ করছেন।  কিন্তু এখানেও হিন্দু প্রাধান্য কমানোর চেষ্টা চলছে জোর কদমে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রেমী  অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এদের মধ্যে শাহরুখ খান এক নম্বরে রয়েছেন। তিনি নিয়ে এলেন হুমা  কুরেশি ও মাহিরা খানকে। এই মাহিরা খান যিনি ‘রইস’ সিনেমায় অভিনয় করলেন শাহরুখ খানের সঙ্গে।  সাজিদ নাদিদওয়ালা নিয়ে এলেন মওরা হুসেনকে,মহেশ ভাট নিয়ে এলেন বিনা মালিক, নার্গিস ফকরিকে। সলমন খান নিয়ে এলেন ক্যাটরিনা কাইফকে, কারণ জোহর  নিয়ে এলেন শ্রীলংকা থেকে খ্রিস্টান জ্যাকলিন ফার্নার্ন্ডেজকে। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে কোনোরকম মডেলিং ব্যাকগ্রাউন্ড  না থাকা  সত্বেও একের পর এক সিনেমাতে এরা অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে চলেছে। বোঝা  যায় এক্ষেত্রে পরিকল্পিত ভাবে পাকিস্তান থেকে অভিনেত্রিদের এনে হিন্দু প্রাধান্য  কমানোর জোর চেষ্টা চলছে।

বলিউডে হিন্দু গায়কদের প্রাধান্য দীর্ঘদিন। কিন্তু সেখানেও হিন্দুদের বঞ্চনা করা হয়েছে এবং এখনো করা হচ্ছে পাকিস্তান প্রেমী প্রযোজক ও পরিচালকদের  দ্বারা।পাকিস্তান থেকে আতিফ আসলাম, শাফাকাত আমানত আলী, রাহাত ফতে আলী খান, মুস্তাফা জাহিদ, মুহাম্মদ ইরফানদের দিয়ে একের পর এক ছবিতে গান গাওয়ানো হয়েছে।  নামকরা হিন্দু গায়করা যেমন-হিমাচল প্রদেশের মোহিত চৌহান, আসামের জুবিন গর্গ, উত্তর প্রদেশের অংকিত তিওয়ারি -এর মতো গায়কদের বঞ্চনা করা হয়েছে।মোহিত চৌহান ” রকস্টার” ছবিতে গানের জন্যে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন , তাকে আর নতুন করে ডাকা হয়নি। ”মার্ডার ২” সিনেমার গায়ক হরষিত সাক্সেনা, যার গান ‘হাল-এ -দিল’ কয়েক কোটি ডাউনলোড হয়েছিল; এইরকম একজন প্রতিভাবান গায়ক কিন্তু আর গান গাওয়ার সুযোগ পাননি। তার বদলে পাকিস্তান থেকে আসা এই সমস্ত গায়করা একের পর ছবিতে গান গেয়ে চলেছেন।   শুধুমাত্র অরিজিৎ সিং মারাত্বক প্রতিভাবান ও  জনপ্রিয়, তাই তিনি টিকে গিয়েছেন।  কারণ সিনেমা হিট করানোর জন্যে অরিজিৎ সিংকে দরকার।   অন্যদিকে আরমান মালিক, জাভেদ আলি  এরা গান গেয়ে চলেছে।জনপ্রিয় গায়ক শানও অনেকদিন কোন ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাননি, যদিও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা গায়করা গান গেয়ে চলেছেন একের পর এক ছবিতে। আর এক জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম, যাকে বাদ পড়তে হয়েছে বলিউডের পাকিস্তান প্রেমের জন্যে। তবে কিছুদিন আগে তিনি বিরক্তিকর মসজিদের আজান নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তারপরে তিনি আর কোনো ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাবেন কিনা, সেটাই সন্দেহ।   সুনিধি চৌহান-এর মতো গায়িকা প্রযোজক আনিস বাজমিকে বিয়ে করলো, যদিও এখন ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে তাদের। কিন্তু ”মুন্নি বদনাম”-এর গায়িকা মমতা শর্মা নিজে বদনাম হয়ে গেলো। সে বিয়ে করলো তার সেক্রেটারি আশরাফ আলীকে আর ধর্মান্তরিত হলো ইসলাম ধর্মে, নতুন নাম হলো আসমা আলী। যদিও এই নতুন নামে সে খুব একটা বিখ্যাত নয়। তারপর বলিউডের গানের ভাষা যথেষ্ট জিহাদি টাইপ। যত দিন যাচ্ছে গানের মধ্যে প্রচুর উর্দু ভাষার ব্যবহার, ‘আল্লাহ’, ‘খুদা’, ‘রব’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার মারাত্বক হারে বেড়ে চলছে। এইসব হচ্ছে গীতিকার (গান লেখক ) ইরশাদ কামিল, কুমার, এলাহাবাদের অমিতাভ ভট্টাচার্য, সেলিম -সুলেমান -দের জন্যে। সিনেমার একজন হিন্দু চরিত্র গানের মধ্যে বলছে ”তওবা কেয়ামত হো গায়ি , আল্লাহ মাফ ক্যারো”, ‘মওলা’, ‘ইবাদত’, ইত্যাদি শব্দ। ”ফ্যাশন” সিনেমাতে একটি গান শুরু হচ্ছে ”শুকরান আলা -আলী হামদুলিল্লাহ” দিয়ে -যার দায়িত্বে ছিলেন সঙ্গীত  পরিচালক সেলিম -সুলেমান। ”রেস” সিনেমাতে হিন্দু চরিত্রের মুখে গান শুরু হচ্ছে ”আল্লাহ দুহাই হে”। শাহরুখ খান আর আলিয়া ভাট-এর নতুন ছবি ‘ডিয়ার জিন্দেগী’-তে একটি গানের লাইন হল  ”মেরে মহল্লা মে ঈদ যো  লায়া হে”।  আর এইসব গান কোটি কোটি হিন্দু যুবক-যুবতী শুনছে প্রতিনিয়ত। আর ধীরে এইসব তাদের মনের ভাষা ও মুখের ভাষাতে পরিণত হচ্ছে।  ইসলাম  নামক জিনিসটি তাদের কাছে সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। এর ভবিষ্যৎ ক্ষতি খুব মারাত্বক।

দীর্ঘ বছর ধরে বলিউড ইসলামী ধর্মান্তকরণের আখড়া হয়ে আছে। বর্তমানেও তার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নাসিরুদ্দিন শাহ নিকাহ করল রত্না পাঠক-কে আর জন্ম দিলো এক মুসলমানের, যার নাম ইমরান খান। ইমরান খান আবার নিকাহ করল দিল্লীর অবন্তিকা শেঠকে। নাসিরুদ্দিন-এর ভাগ্নে আমির খান আবার ডাবল সেঞ্চুরির মালিক। প্রথমে নিকাহ করল রিনা দত্তকে ; জন্ম দিলো দুই মুসলমানের- জুনেদ আর ইরা। যেসময় আমির খানের হাতে কাজ ছিল না, ট্রাভেল এজেন্সির মালিক রিনা দত্ত প্রযোজনা করেছিলেন ”লাগান” ছবিটির। এই ছবিটি আমির খানের জায়গা বলিউডে অনেক শক্ত করে তোলে। কিন্তু কোনো মুসলমান যেরকম উপকার মনে রাখে না, উল্টে তার ক্ষতি করে, আমির খানও তার ব্যতিক্রম নয়। ”লাগান”-এর সহপরিচালক কিরণ রাও-এর সঙ্গে প্রেম করলেন এবং কয়েক মাসের মধ্যে রিনা দত্তকে তালাক দিয়ে কিরণ রাওকে নিকাহ করলেন। মুসলমান কিরণ রাও জন্ম দিলেন আর এক মুসলমান আজাদ-এর। শাহরুখ খান নিকাহ করল গৌরিকে আর জন্ম দিল তিনটে মুসলমানের-আরিয়ান, ,সারা আর আবরামের। আর এক অভিনেত্রী অমৃতা  সিংহ , ২৫বছর বয়সে  আর ধৈর্য ধরল না , নিকাহ করল ১৯ বছরের সইফ আলি খানকে। তারপর জন্ম দিল দুটো মুসলমানের -ইব্রাহিম আলী খান আর সারা আলী খানের। তারপর তালাক দিল একদম সাচ্চা মুসলমানের  মত। তারপর তার মন গিয়ে পড়লো করিনা কাপুর-এর। তারপর নিকাহ করলো তাকে -জন্ম দিলো আর একটা মুসলমানের , তৈমুর আলি খানের। ফারহান আখতার নিকাহ করল অধুনাকে ,তারপর তাকে বাদ দিয়ে এখন আবার নতুন শিকার শ্রদ্ধা কাপুর -এর পিছনে। যদিও  শক্তি কাপুর-এর কড়া মনোভাবের জন্যে এ যাত্রায় বেঁচে গেলো একটি হিন্দু মেয়ে।

 বর্তমান ভারতে এক মারাত্বক বিপজ্জনক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তার ফল বলিউডের সিনেমাগুলিতে বিগত কয়েকবছর  ধরে দেখা যাচ্ছে। আমির খানের একটা ভারত বিরোধী মন্তব্য তার অনেক ক্ষতি যেমন সিনেমা ফ্লপ হওয়া, স্ন্যাপডিল-এর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর থেকে বাদ পড়া এইসব হয়েছিল।ঠেলায় পড়ে করণ জোহরকে লিখিত দিতে হয়েছে যে তিনি তার সিনেমাতে আর কোনোদিন পাকিস্তানী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করবেন না। কোনো সিনেমাতে পাকিস্তানী বা মুসলিম ভাব থাকলে তা এখন আর ঠিকমতো চলছে না সিনেমা হলগুলিতে বা লোকেরাও দেখতেও চাইছে না। তাছাড়া সিনেমা হল ভাঙচুর করছে হিন্দু জনতা।  তাইতো মুসলিম মুসলিম ভাব ছবি ”রইস” ফ্লপ করলেও ”বাহুবলি ২” মারাত্বক ব্যবসা করেছে। প্রতি সিনেমাতে কম করে একটা গনেশ পুজোর দৃশ্য বা হনুমান পুজোর দৃশ্য রাখা এখন কমন ব্যাপার দাঁড়িয়েছে। একের পর এক হিন্দু অভিনেতা যেমন-রণবীর সিং, বরুন ধাওয়ান, মনোজ  বাজপেয়ী, রাজকুমার রাও, অর্জুন কাপুর, সুশান্ত সিং রাজপূত-দের মতো হিন্দু অভিনেতারা দ্রুত গতিতে উঠে আসছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একই সঙ্গে সিনেমা মুক্তি পেলেও তিন খানকে এরা ছাপিয়ে যাচ্ছে, এটাই আশার আলো।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s