রোহিঙ্গা মুসলিম ও ভারতের নিরাপত্তা

শ্রী রজত রায় 

 অনেকের মুখে বলতে শুনেছি হিন্দুদের মধ্যে একতার খুব অভাব।একজনের বিপদে আরেকজন পাশে থাকে না। অন্যদিকে মুসলমানরা সবাই এক। একসঙ্গে নমাজ পড়ে।একসঙ্গে খায়। গোটা বিশ্বের মুসলমানরা নিজেদের এক ভাবে। আল্লা হো আকবর বললে সবাই এক সারিতে চলে আসে। একজনের বিপদে আরেকজন ঝাপিয়ে পড়ে।  এগুলি যদি সত্যি হয়, তবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের এই দুর্দশা কেন? মায়ানমার সেনাবাহিনী এবং সেখানকার স্থানীয় বৌদ্ধদের সাড়াশি উৎপীড়নে উৎখাত রোহিঙ্গা মুসলমানদের পৃথিবীর কোন মুসলমান দেশ আশ্রয় দিচ্ছে না কেন? ওদের মুসলিম সৌভাতৃত্বের বাণী কোথায় গেলো? একমাত্র বাংলাদেশ, যেটা রাখাইন প্রদেশের(আরাকান, শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে নামটা খুব পাওয়া যায়) উত্তর সীমান্তে ওদের বাসস্থানের একদম লাগোয়া, সেই দেশে ওরা আপনাআপনি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশে আশ্রয়প্রার্থী হতে চাইলেও কেউ তাদের  আশ্রয় দিতে রাজী নয়।সবাই সীমান্ত থেকেই ওদের বিদায় করে দিচ্ছে। মুসলমান একতার, ভ্রাতৃত্ববোধের আদর্শের চিহ্নমাত্রও তো নেই।
           ২০১৪ এর এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর রিপোর্ট  ‘Left Out In The Cold’  অনুযায়ী Gulf Cooperation Council  যার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ,বাহরিন, কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো সব মুসলমান রাষ্ট্র আছে , তারা মুসলমান রাষ্ট্র সিরিয়ার একজন নির্যাতিত মুসলমানকেও আশ্রয় দেয় নি। একতা আর সৌভাতৃত্ব বোধ ভোজবাজীর মতো উধাও হয়ে গেলো কেন?
          এক চিত্র রাখাইন থেকে পালানো মুসলমানদের ক্ষেত্রেও। ১৯৮২ র ‘বার্মিজ সিটিজেনশিপ ল’ অনুযায়ী যদি কারো পূর্বপুরুষ ১৮২৩ সালের পূর্বে ঐ দেশের বাসিন্দা না হয়ে থাকে তবে সে ঐ দেশের নাগরিক বলে গন্য হবে না। তারা Resident Foreigners হিসেবে গন্য হবে।এমনকি তাদের মা বাবার একজন সে দেশের নাগরিক হলেও না। সামরিক শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে ২০১৫ সালে দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবার পরেও সেই সরকার ওদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। ২০১২ সালে এক বৌদ্ধমতাবলম্বী মহিলা রোহিঙ্গাদের দ্বারা গনধর্ষিতা এবং খুন হয়।তারপর স্থানীয় বৌদ্ধদের আক্রোশের মুখে ওদের পলায়ন শুরু হয়। এবার ২৫ শে আগস্ট রোহিঙ্গারা মায়ানমার সেনার একটা ক্যাম্প আক্রমন করে এবং সেইসঙ্গে ১২ জনকে হত্যা করে। তারপর থেকে মায়ানমার সেনাবাহিনী ওদের এলাকা তছনছ শুরু করে ।শুরু হয় গনপলায়ন। পৃথিবীতে এতগুলি মুসলিম দেশ আছে। অনেকগুলি পেট্রোলিয়ামের পয়সায় যথেষ্ট ধনী দেশ। সবাই কয়েকহাজার করে আশ্রয় দিলেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুনর্বাসন হয়ে যায়?কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় ওদের একজনকেও নিতে রাজী হচ্ছে না কেন? ভারতবর্ষের যে রাজনীতিবিদরা রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে আশ্রয় দেবার ওকালতি করছেন, মানবিকতার দোহাই দিচ্ছেন, বলছেন , আমার রাজ্যের দরজা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য খোলা, তাদের মনে কি এই প্রশ্নটা আসছে না যে আরব, কাতার, লিবিয়া, বাহরিন এর মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলি কেন ওদের আশ্রয় দিচ্ছে না? ভারতে ওদের আশ্রয় দেবার ওকালতি কোন স্বার্থে? যে মানবিকতার দোহাই দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ, পাকিস্থানে হিন্দুর প্রতি নির্মম অত্যাচারের সময় এই মানবিকতা কোথায় থাকে? তখন নীরবতা কেন? রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুঃখে কাতর আর পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের দুঃখে উদাসীন , এর নাম কি মানবতা?ধর্মনিরপেক্ষতা?(চলবে )

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s