লস্কর জঙ্গি নইম-এর বিচার শুরু হলো বনগাঁ আদালতে

উদ্দেশ্য ছিল জম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনির উপর হামলা এবং ভারতে জঙ্গিঘাঁটি তৈরি করা। এই গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েও লস্কর-ই-তোইবার জঙ্গি নেতা শেখ আবদুল নইম ওরফে সমীর ফিল্মি কায়দায় ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে, ওই মামলায় ইতিমধ্যেই তার সহযোগীদের তথা দুই পাকিস্তানি সহ তিন লস্কর জঙ্গির ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে বনগাঁ মহকুমা আদালত। এনআইএ’র হাতে ফের ধরা পড়ার পর অবশেষে গতকাল ১০ই অক্টোবর, বুধবার ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা নইমের শুনানি শুরু হল এই বনগাঁ মহকুমা আদালতে।
পুলিস ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল শেখ আবদুল নইম ওরফে সমীর, মহম্মদ ইউনুস, আবদুল্লা এবং মুজাফ্ফর আহমেদ রাঠের নামে চারজন লস্কর জঙ্গিকে পেট্রাপোল সীমান্তে আটক করে বিএসএফ। বনগাঁ থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, ভারতে হামলার জন্য এই চারজনই পাকিস্তানে লস্কর শীর্ষনেতাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। একে-৪৭ চালানো, গ্রেনেড ছোঁড়া এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষণও নিয়েছিল। চারজনের মধ্যে নইমই ছিল প্রধান জঙ্গিনেতা। তার বাড়ি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে। সে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিল। ইংরাজিতে দক্ষ। ভারতীয় আইন সম্পর্কেও তার জ্ঞান রয়েছে।  গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে মুম্বইয়ে বোমা বিস্ফোরণেও যুক্ত ছিল নইম। তাই বনগাঁ আদালতে মামলা চলাকালীন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে এ রাজ্য থেকে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু, ছত্তিশগড় এলাকা থেকে সে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর কোনও খোঁজ ছিল না। এদিকে, মামলা চলতে থাকে বনগাঁ আদালতে। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ১২১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের বিচারক বিনয়কুমার পাঠক তিন জঙ্গি সদস্য আবদুল্লা, ইউনুস ও মুজাফ্ফরের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেন। সাজা ঘোষণার ১১ মাস পর ওই বছরের ২৮ নভেম্বর লখনউ থেকে নইমকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।
বনগাঁ মহকুমা আদালতে এই মামলার সরকারি পক্ষের আইনজীবী সমীর দাস বলেন, নইম প্রধান অভিযুক্ত। সিআইডি তাকে তিহার জেল থেকে গত ৭ তারিখ দমদম সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে আসে। ওই মামলায় এদিন নইমকে বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের হাজির করানো হয়েছিল। এদিন থেকে শুনানি শুরু হল। নইমের কোনও আইনজীবী ছিলেন না। সে নিজেই নিজের শুনানিতে অংশ নিয়েছিল। সে বিচারককে জানিয়েছে, সে যাতে বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তার জন্য তাকে ফোন করার সুযোগ দেওয়া হোক। দিল্লিতে তার পরিবারের সদস্যরা আছে। আগামী, শুক্রবার ফের হাজিরা রয়েছে। তাই তার জন্য লিগ্যল এইড থেকে একজন আইনজীবী দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s