বড় দেরি করে ফেলছি আমরা।

                                                                      -শ্রী রজত রায়।
      দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ তখন সমাপ্তির পথে। রাশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান আর পরিবেশ এবং সেইসঙ্গে  লাল ফৌজের দ্বারা  মার্শাল স্ট‍্যালিনের পোড়ামাটির নীতির সফল প্রয়োগ হিটলালের বিখ্যাত Sixth Army-এর  ধ্বংস  নিশ্চিত করল। পাল্টা আক্রমনে লাল ফৌজ জার্মানির একের পর এক ভূখন্ড দখল করে রাজধানীর দিকে আগুয়ান। জাপানের প্রতিরোধ নিঃশেষিত। কিন্তু যে মারনাস্ত্র আমেরিকা তৈরী করেছে তার প্রয়োগ না ক‍রলে  তো মারনক্ষমতা বোঝা যাবে না। ১৯৪৫ এর ৬ আগস্ট আর ৯ আগস্ট  হিরোসিমা আর নাগাসাকিতে ফেলা হল ‘The Little Boy’ আর ‘The Fat Man’ পরমানু বোমা। ধ্বংসস্তুপের শহর হিরোসিমাতে এক আমেরিকান সেনা অফিসার কথা বলছিলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। সব প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিচ্ছিলেন। জেনারেল ম্যাকআর্থার‌। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর জয়ের প্রধান স্থপতি। যুদ্ধে পরাজয়ের কারন উল্লেখ করার সময় ঐ জেনারেল সবসময় বলতেন, আমি দুটো মাত্র শব্দে যুদ্ধে পরাজয়ের কারনকে ব্যাখ্যা করতে পারি-  ”I can explain the cause of defeat only in two wards, ” too late” অর্থাৎ  বড় দেরী। বন্ধু বা শত্রূ  চিনতে দেরী, সিদ্ধান্ত নিতে দেরী, বিপদসংকেত অনুধাবন করতে দেরী। যদি বাংলার হিন্দুসমাজ বিপদের অশনি সংকেত বুঝতে দেরী করে তবে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবি।তার থেকেও বড় কথা, বাঙ্গালী হিন্দু বিপদটা কি সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে এড়িয়ে যায় অথবা বিজ্ঞতার মুখোশের আড়ালে নিজের অজ্ঞতাকে লুকিয়ে রাখে অথবা উটপাখির মত বালিতে মুখ গুজে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে‌।
     কয়েকদিন পূর্বে মধ্য কলকাতার রাজপথ কাপিয়ে একটা মিছিল হয়েছে।উদ্যোক্তা All Bengal Minority Youth Federation. ওই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মহম্মদ কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে টিপু সুলতান মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া ঐ মিছিলটা কি এমনি আর পাচটা মিছিলের মতো ছিল? মিছিলটা কি পুলিশের অনুমতি নিয়ে হয়েছিলো? মিছিলের সুর কি তারে বাধা ছিলো? মিছিলের দাবীগুলির মধ্যে কি ভবিষ্যৎ বিপদের ঘন্টাধ্বনির সুস্পস্ট শব্দ শোনা যাচ্ছিলো না?
        দাবী ছিলো ইমাম ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু এইটুকু হলে একটা কথা ছিলো। কিন্তু মিছিলকারীদের বক্তব্য ছিলো, শারদীয়া উৎসব উদযাপনে অনুদান দিলে আমাদের ইমামভাতাও বৃদ্ধি করতে হবে। কি অকল্পনীয় স্পর্ধা। যদি বাংলাদেশে মুসলমানদের অনুষ্ঠানের  জন্য  সরকারী অনুদানের প্রশ্নে হিন্দুরা তাদেরও অনুষ্ঠানে অনুদান বা পুরোহিতদের অনুদানের দাবীতে মিছিল করতো , তাহলে সেই মিছিলকারীরা অক্ষত অবস্থায় বাড়ী ফিরতে পারতো কি? জানি, অনেকে বলবেন ওটা ইশ্লামিক রাষ্ট্র, আর আমাদেরটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্নটা রাষ্ট্রব্যবস্থার চারিত্রিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে নয়। দাবীটার মধ্যে সমাজের বৃহত্তর অংশকে চ্যালেঞ্জ জানাবার প্রতিস্পর্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ কি যথেষ্ট উদ্বেগছনক নয়? এরপরের দাবী আরো মারাত্মক। মুসলিম পুলিশ কমিশনার চাই এবং পুলিশে মুসলিম সংখ্যাবৃদ্ধি চাই। এটা আমাদের গনতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা। এই দাবীর পিছনে কারন কি? বর্তমান পুলিশি ব্যবস্থায় কলকাতা মহানগরীতে মুসলিমরা কি অসুরক্ষিত?এমন কোনও ঘটনা কেউ কি শুনেছেন? তাহলে এই দাবী কি উদ্দেশ্যে? অন্য সব দপ্তর বাদ দিয়ে পুলিশ বিভাগ কেন? এটা কি কোন অনেক অনেক বড় পরিকল্পনার অঙ্গ? যদি কলকাতা পুলিশে মুসলমান সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মুসলমান হয় ,তবে কলকাতায় ওরা কোন গোপন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করবে? ১৯৪৬ এর কোলকাতা দাঙ্গার ইতিহাস কি ওরা মনে মনে লালন পালন করে?
         আশ্চর্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে নীরব। মনে হচ্ছে মৌনব্রত পালন করছে। সুবোধ বিকাশরা গলা জড়াজড়ি করে ক্যামেরার সামনে গোরুর মাংস খেতে পারে, অথচ হাত ধরাধরি করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। এই ঘটনাকে উপেক্ষা করলে ভয়াবহ ভবিষ্যতকে আমন্ত্রন করা হবে।বিনা অনুমতিতে মিছিল এবং সেই মিছিল থেকে চরম সাম্প্রদায়িক দাবী। পুলিশ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ধারায় মামলা রুজু করেছে কি ? কোন অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে সে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। মুসলমান সমাজের অগ্ৰগন্য ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্যে ঘোষনা করা দরকার  ঐ বেআইনী , অসাংবিধানিক দাবীগুলির সঙ্গে আমরা সহমত পোষন করি না।ওগুলি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবী। তবে তো সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় দেওয়া হবে। ঐ দাবীগুলির পিছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মদত নেই তো?নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলা। নিজেরা হাত গুটিয়ে অপরের ভরসায় থাকলে ভগবানও  রক্ষা করবেন না। ঐ জেনারেল ম্যাকআর্থারের  তত্ত্ব অনুযায়ী বড় দেরী হলে বড় পরাজয়।স্বামীজী বলতেন, আহাম্মকের কথা মানুষ শোনে না , তো ভগবান কি শুনবেন। সেই বিপদ বুঝে উঠতে বড্ড দেরি করে ফেলছি আমরা। আর এইভাবে ভবিষ্যত ভারতের কাছে আমরা নিজেদের যেন আহাম্মক বলে প্রমানিত না করি

1 Comment

  1. Ami akjon Hindu o College professor. Amar mot e, Hindu der sob problem er main karon holo, aktir besi sontan na neoa, sob jaigatei hindu ra 2 theke 1, eibhabe 200 theke 100, 50 theke 25 hoe minority o bilupto hoe jachche. Hindu der modhdhe logically bojhate hobe j, family te kano bhai boner dorkar o minimum 2-3 ti sontan nitei hobe na hole Hindu der jaiga aro choto hoe jabe o abar akta muslim country toiri hobe. muslim ra joto guli kore sontan nei, hindu der k same no baby nite hobe,, otherwise abar kharap din asbe.

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s