পশ্চিমবাংলার জনবিন্যাস পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে তিন দাবিতে পথে নামছে হিন্দু সংহতি

অনেকদিন আগে একবার আসাম থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুচবিহার স্টেশনে বেশ কিছুটা সময় কাটাতে হয়েছিল। সঙ্গে ছিল বন্ধু প্রত্যুষ। সকাল বেলা টিফিন করতে হবে। স্টেশনের বাইরে দেখলাম খিচুড়ি আর কষা মাংস বিক্রি হচ্ছে। পেটে ছুঁচোয় ডন বৈঠক মারছিল। নিয়ে নিলাম দুজনে এক প্লেট করে। প্রচন্ড গরম খিচুড়ি। হাত লাগানো কষ্টকর। তার মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি এক মনে। হঠাৎ প্রত্যুষের প্লেটের দিকে চোখ গেল। মোটামুটি সাবাড় করে ফেলেছে পুরোটা। বললাম, ‘অত গরম খাও কি করে’! ও বলল, ‘আপনি তো খিচুড়ি খাওয়ার সিস্টেমই জানেন না’। ‘খিচুড়ি খাওয়ার আবার আলাদা করে কোনো সিস্টেম আছে নাকি’? আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম তার দিকে। ও বলল, ‘আছে। এক ধার থেকে অল্প অল্প করে খেতে হয়, মাঝখানে হাত দিলে হাত পুড়বে কিন্তু খেতে পারবেন না’।

যাইহোক, গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের ডেমোগ্রাফিটা(জনবিন্যাস) নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে অনেকদিন আগের এই ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। হ্যাঁ, ওরা সিস্টেমটা জানে। নিঃশব্দে জমি দখলের সিস্টেমটা ওরা জানে। গরম খিচুড়ি খাওয়ার সিস্টেমেই ওরা পশ্চিমবঙ্গটাকে খাচ্ছে। একধার থেকে অল্প অল্প করে গরম খিচুড়ি খাওয়ার সিস্টেম আর একধার থেকে আস্তে আস্তে জমি দখলের সিস্টেমের মধ্যে অদ্ভুত একটা সাদৃশ্য আছে। ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তানকে আমরা হারিয়েছি, কাশ্মীর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের জনবিন্যাসের দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং এই জনবিন্যাসের পরিবর্তন আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার জন্য সেখানে রোহিঙ্গাদেরকে বসানো হয়েছে পরিকল্পনা মাফিক। দক্ষিণের রাজ্য কেরলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। সেখানে ইতিমধ্যেই আইএস-এর পতাকা উঠে গেছে এবং কেরলের সীমানা ছাড়িয়ে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যগুলোতেও জনবিন্যাস পরিবর্তন ঘটে চলেছে দ্রুতগতিতে। পূর্বদিকে আমাদের বাংলার তিনভাগের দুভাগ অংশ চলে গেছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম সহ পূর্বোত্তর রাজ্যগুলোতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে ইসলামিক জেহাদের নিঃশব্দ কর্মকান্ড, ঠিক ফল্গুধারার মত। মাঝেমাঝে দেগঙ্গা, নলিয়াখালি, পাঁচলা, ধুলাগড় কিংবা বাদুড়িয়া-বসিরহাটে এই ফল্গুধারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ফেললেও আবার তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলতে দেরী করেনি জেহাদের কান্ডারীরা। এখনও যে সময় হয়নি দাঁতনখ বের করার! এখন সময় নীরবে সংখ্যা বাড়িয়ে চলার। জনসংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। জনসংখ্যার অনুপাতে বাড়াতে হবে মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজারের সংখ্যাও। পাশাপাশি চলতে থাকবে জেহাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে সাধারণ মুসলমানদের সহি মুসলমানে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া। দিকে দিকে আওয়াজ উঠবে স্কুলে সরস্বতী পূজা করা হারাম, জাতীয়সঙ্গীত গাওয়া হারাম, আমাদের জন্য বিধানসভা এবং লোকসভায় জনসংখ্যার অনুপাতে আসন সংরক্ষণ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর…. ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসবে সময় মত – আলাদা দেশ চাই। পাকিস্তান চাই। গ্রেটার বাংলাদেশ চাই। মিশন গজবা-ই-হিন্দ। এই মিশন অ্যাকমপ্লিশ করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হল জনসংখ্যা। বাংলাদেশের এক হুজুরের অকপট স্বাকারোক্তি আজকাল সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে – ‘ওরা বলছে পারমাণবিক বোমা ফাটাবে। আরে, আমরা তো জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটাবো! আমার নিজেরই তো ১১টা সন্তান’।

এই জনসংখ্যার বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর রূপ আমরা দেখেছিলাম ১৯৪৭ সালে। ভারত তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল সেই বিস্ফোরণে। লক্ষ লক্ষ হিন্দু উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। হাজার হাজার হিন্দুনারীর সম্ভ্রমহানী হয়েছিল। হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছিল নির্বিচারে। হিন্দুদের সম্পত্তি বেদখল হয়ে গিয়েছিল এক ঝটকায়। হয়েছিল গণধর্মান্তরকরণ। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে আবার এই বিস্ফোরণের শিকার হলেন কাশ্মীরের হিন্দুরা। মাত্র তিনদিন সময়ের মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকা হল হিন্দুশূন্য। এই বিস্ফোরণগুলো কিন্তু হঠাৎ করে হয় নি। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে চেইন রিয়্যাকশন বলে, বিস্ফোরণের সেই পূর্বপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। এই প্রক্রিয়া আজও চলছে। যার ফলশ্রুতি স্বরূপ ভবিষ্যতের গর্ভে লুকিয়ে আছে আগের থেকে আরও বেশী ভয়ানক অনেক অনেক বিস্ফোরণ।

এখন আমাদের পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের চিত্রটা একবার দেখা যাক। দেশভাগের পর ১৯৫১ সালের প্রথম জনগণনায় পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান জনসংখ্যা ছিল ১৯.৮৫% আর ১৯৮১র জনগণনায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১.৫১%| অর্থাৎ ৫১ থেকে ৮১ – এই ত্রিশ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ ১.৬৬%| কিন্তু ১৯৮১ থেকে পরবর্তী ত্রিশ বছরে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫% অর্থাৎ পূর্ববর্তী ত্রিশ বছরের তুলনায় তিনগুনেরও বেশী! ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা ২৭.১%। ২০০১ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ শতাংশ হারে অন্যদিকে হিন্দুদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৬.৮ শতাংশ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে হিন্দুর জনসংখ্যা যদি ০.৭ শতাংশ কমে থাকে, বাংলায় কমেছে ১.৯৪ শতাংশ। ঠিক তেমনই মুসলিম জনসংখ্যা ভারতে ০.৮ শতাংশ বেড়েছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে ১.৭৭ শতাংশ। সবথেকে ভয়ানক তথ্য হল, পশ্চিমবঙ্গে ০ থেকে ৬ বৎসর পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ৩৭ শতাংশ। একদিকে মুসলমানদের জন্মহার হিন্দুর তুলনায় বেশী, আরেকদিকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সুনামী। এই চাপে পশ্চিমবঙ্গের জনচরিত্র বদলাচ্ছে দিন প্রতিদিন। আসুন, দেখা যাক অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সরকারী তথ্য কি বলছে। ১১ই অক্টোবর, ১৯৯২ সালে গণশক্তি পত্রিকায় ”অনুপ্রবেশ সমস্যার প্রকৃত সমাধান প্রয়োজন” শীর্ষক নিবন্ধে কমরেড জ্যোতি বসু লিখছেন – ‘১৯৭১ থেকে মুসলমানরাও ভারতে আসতে শুরু করলো| ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত বিএসএফ ২,৩৫,৫২৯ জন বাংলাদেশীকে সনাক্ত করে তাড়িয়ে দিয়েছে| এদের মধ্যে ৬৮,৪৭২ জন হিন্দু আর ১,৬৪,১৩২ জন মুসলমান| ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত মোবাইল টাস্ক ফোর্স ২,১৬,৯৮৫ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দিয়েছে| এদের মধ্যে ৫৬,৩৪২ জন হিন্দু ও ১,৬৯,৭৯৫ জন মুসলমান|’ সরকারি পরিসংখ্যান| ১ জন হিন্দু এসেছে তো ৪ জন মুসলমান এসেছে! তাহলে যারা ধরা পড়লো না, তাদের মধ্যেও হিন্দু এবং মুসলমানের সংখ্যার অনুপাতটা ১:৪ ধরলে কি ভুল হবে? এছাড়াও ভারতের প্রথম কম্যুনিষ্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রজিত গুপ্ত ১৯৯০ সালের ৬ই মে লোকসভায় জানান যে, ভারতে ১ কোটি অবৈধ বাংলাদেশী আছে। ২০০৪ সালের ১৪ই জুলাই কংগ্রেস সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ জয়সওয়াল এক প্রশ্নোত্তরে জানান যে ভারতে ১,২০,৫৩,৯৫০ জন অবৈধ বাংলাদেশী আছে। এর মধ্যে ৫৭ লক্ষই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আমরা সবাই জানি সরকারী পরিসংখ্যানের তুলনায় বাস্তবে এই সংখ্যাটা অনেক বেশী। এই অবৈধ বাংলাদেশীদের মধ্যে আমরা হিন্দু মুসলমানের অনুপাত কি সেই ১:৪ ধরে নিতে পারি না! ২০০৪ এর পরে এক যুগেরও বেশী সময় পেরিয়ে গেছে। অবাধ অনুপ্রবেশ আজও চলছে সমান তালে। এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের উপরে কিভাবে পড়ছে তা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। আর এই জনচরিত্রের ভারসাম্য দ্রুত পাল্টে ফেলার জন্য পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে রোহিঙ্গাদের এখানে বসানো হয়েছে প্রকাশ্যে ঘোষণা করে। সব ঠিকঠাক চললে স্রোতের জলের মত ঢুকবে তারা আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে।

এখন পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোর কি পরিস্থিতি দেখা যাক। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ১৯৫১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে ১০%, পাশাপাশি মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে ১০%। সাতটি ব্লকে হিন্দুরা সংখ্যালঘু, পাঁচটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০% এর বেশী এবং আরও আটটি ব্লকে ৩০% এরও বেশী। উত্তর ২৪ পরগণায় নয়টি ব্লক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, তিনটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০% এর বেশী, আরও দুটি ব্লকে ৩০% এর বেশী। নদীয়া জেলায় চারটি ব্লক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, দুটি ব্লকে ৪০% এর বেশী এবং দুটি ব্লকে ৩০% এর বেশী। মুর্শিদাবাদ জেলার চিত্র আরও ভয়ানক। এই জেলায় মোট ২৬ টি ব্লকের মধ্যে ২৫ টি ব্লকেই মুসলিমরা সংখ্যাগুরু এবং অবশিষ্ট একটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০% এর উপরে। মানচিত্রে মুর্শিদাবাদের উপরেই মালদা জেলা। সেখানে দশটি ব্লকে হিন্দুরা সংখ্যালঘু এবং একটি ব্লকে মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০% অতিক্রম করেছে। রাজ্যের আরেকটি মুসলিম অধ্যুষিত জেলা হল উত্তর দিনাজপুর। এই জেলায় সাতটি ব্লকে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, একটিতে তারা ৩০% এর বেশী। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর ব্লক বর্তমানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আরও তিনটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ৩০% এর উপরে। জলপাইগুড়ি জেলার পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে ভালো হলেও চারটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা ১৫% এর বেশী। কুচবিহার জেলার পরিস্থিতি কিন্তু খারাপের দিকে। একদিকে বাংলাদেশের সীমান্ত থাকার সাথে সাথে অন্যদিকে আসামের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ধুবুরি জেলা থাকায় কুচবিহারের জনচরিত্র জলপাইগুড়ির তুলনায় ভিন্ন। এই জেলার সাতটি ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা বর্তমানে ৩০% এর বেশী। সীমান্ত জেলাগুলির মোটামুটি ৪০-৪২ শতাংশ ব্লকে ইতিমধ্যেই মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

উপরের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই অনুভব করতে পারবেন যে কিভাবে সিস্টেমেটিক্যালি বিনাযুদ্ধে জমি দখল চলছে। ইতিহাস সাক্ষী, ভারতের যে যে অংশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে গেছে, সেই সেই অংশ ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। সুতরাং হিন্দুরা আজ সচেতন না হলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তাই এই সময়টা আর ঘরে বসে নিজেদের বিনাশের দিন গোনার সময় নয়। যেকোনো মূল্যে রাজ্যে জনচরিত্রের ভারসাম্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। তারজন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে আমাদের প্রথম দাবী – কঠোর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করতে হবে। দুইয়ের বেশী সন্তান নেওয়া যাবে না। যারা এই আইন ভঙ্গ করবে, তাদের ভোটাধিকার সহ সব ধরণের সরকারী অনুদান এবং সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও এই আইনের দ্বারা সুনিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের দ্বিতীয় দাবী, দেশভাগের পর থেকে বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অত্যাচারিত হয়ে অথবা অত্যাচারিত হওয়ার আশংকায় যে বাঙালি হিন্দুরা সেখান থেকে পালিয়ে ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারা শরণার্থী এবং তাদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব দিতে হবে। কারণ তারা দেশ বিভাজনের বলি। আমরা, সারা ভারতের হিন্দুরা সবাই মিলে দেশ বিভাজন রোধ করতে পারি নি। এই দায়িত্ব শুধু ওপার বাংলার হিন্দুদের ছিল না, বরং আমাদের সকলের ছিল। ভারতের অখন্ডতা রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা আমাদের সকলের। সুতরাং দেশভাগের পরে যারা বিভাজন রেখার ওপারে থেকে গেল, তাদেরকে শিকারী হায়নার সামনে ছেড়ে দিয়ে আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারি না। তাদের মর্যাদা সহকারে আপন করে নিতে হবে। আমরা সেদিন ভারতের অখন্ডতা রক্ষা করতে পারিনি। সেই ব্যর্থতার দায় যেমন সবাইকে নিতে হবে, ঠিক তেমন ভাবেই ভবিষ্যতে অখন্ডভারত নির্মাণের সংকল্প নিয়ে সবাই মিলে একসাথে লড়াই করতে হবে। যদি কোনোদিন আমরা আমাদের হারানো ভূমিখন্ড উদ্ধার করতে পারি, তার সাফল্যও আমরা সবাই মিলে ভাগ করে নেবো। আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গই হোক আমাদের ফেলে আসা জমি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের বেসক্যাম্প।

অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য ধরণের সুযোগ সুবিধার লোভে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে আসা মুসলমানরা অনুপ্রবেশকারী। আমাদের তৃতীয় দাবী, এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের এদেশ থেকে তাড়াতে হবে। দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান। আর সেই পাকিস্তানকে ভাগ করে হিন্দু বাঙালির বাসভূমি হিসেবে আমরা ছিনিয়ে নিয়েছিলাম এই পশ্চিমবঙ্গকে। সুতরাং ওপার থেকে চুপিসারে এপারে এসে বাঙালি হিন্দুর মাটি, কৃষি, ব্যবসা, চাকরী – সবকিছুর উপরে ভাগ বসানোর সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়িয়ে হিন্দু বাঙালির এই শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার উদ্বাস্তু বানানোর চক্রান্তকে যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করতে হবে। হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয় পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হলে অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের এখান থেকে তাড়াতে হবে। আমাদের এই বাংলায় ওপার থেকে আসা অনেক হিন্দু এরকমও আছেন, যারা ওপারে হিন্দুদের কোনো ধরণের ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনাপ্রবাহকে অস্বীকার করেন এবং নিজেরা কেবলমাত্র অর্থনৈতিক কারণে এপারে এসেছেন বলে মনে করেন। এপারে আসার পরে এই ধরণের হিন্দুদের একটা অংশ আবার মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের হাতে হাত মিলিয়ে তাদের নাগরিকত্বের দাবীতে পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনও করছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের যারা বৈধ নাগরিক, তাদেরকেই নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্তে সামিল হয়েছেন। এই ধরণের হিন্দুরাও যেন ভারতের নাগরিকত্ব না পায়, সেদিকেও আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

হিন্দু সংহতি এই তিনটি দাবীতে রাজ্যব্যপী আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের কাছে সরাসরি আমাদের এই দাবী পেশ করার সাথে সাথে আমরা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সহ রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন করছি, আপনারা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্দ্ধে উঠে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের এই দাবীকে সমর্থন করুন এবং আমাদের আন্দোলনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। সাথে সাথে দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের সকল দেশভক্ত নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব তথা দেশের অখন্ডতা রক্ষার এই আন্দোলনে যোগদান করার আহ্বান জানাই।

বন্দেমাতরম।।

শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য।

সভাপতি, হিন্দু সংহতি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s