বাংলাদেশের টাকা ছাপানোর কাগজে ছাপা হচ্ছে ভারতীয় জালনোট, জানালো এনআইএ

বাংলাদেশে যে কাগজে সেদেশের টাকা ছাপা হয়, তাতেই ছাপা হচ্ছে ভারতীয় জাল নোট। এমনই তথ্যপ্রমাণ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে। সীমান্তের ওপারের কারেন্সি পেপার ব্যবহার করে নকল ভারতীয় নোট ছাপার কথা জানতে পেরে উদ্বিগ্ন তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা। যে কোনও দেশেই কারেন্সি পেপার অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। বাংলাদেশে নিরাপত্তার বেড়া ভেঙে কীভাবে তা বাইরে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় নোটের ১৭টি ‘সিকিউরিটি ফিচার’-এর মধ্যে ১১টিই নকল করে ফেলেছে জাল নোটের কারবারিরা। যে কারণে গোয়েন্দাদের চিন্তা আরও বেড়েছে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রক মারফত বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এনআইএ’র কর্তারা। যাতে হাসিনা সরকার আলাদা করে তদন্ত শুরু করতে পারে।
কিন্তু কীভাবে এই কারেন্সি পেপারের বিষয়টি জানতে পারলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা? চলতি বছরে মালদহ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করে বিএসএফ এবং এনআইএ। ওই নোটগুলি ছিল উন্নতমানের। সেই কারণেই তাদের সন্দেহ বাড়ে। সেই নোটের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারেন্সি পেপারেই নোটগুলি ছাপা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় নোট যে কারেন্সি পেপারে ছাপা হয়, তাতে এই নোটগুলি ছাপা হয়নি।
তাহলে এই কারেন্সি পেপার কোন দেশের? এই নিয়ে আলাদা করে তদন্ত শুরু হয়। ধৃতরা জেরায় জানায়, বাংলাদেশের কারেন্সি পেপার এ দেশে আসছে সেখানকার জাল নোট কারবারিদের মারফত। এরপর মালদহ থেকে ওই কারেন্সি পেপার উদ্ধার করা হয়। অফিসারদের ধারণা, জাল নোট ছাপার কাজে এই পেপারই ব্যবহৃত হচ্ছে ।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের কথায়, এই কাগজের গুণগত মান যথেষ্ট ভালো। সেই কারণে সহজেই ভারতীয় নোটের সিকিউরিটি ফিচারগুলি নকল করা যাচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত নোট কারবারিরা ছ’-সাতটি বৈশিষ্ট্য নকল করতে পেরেছিল। কারেন্সি পেপার ব্যবহারে নোটের ১৭টি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তারা ১১টি হুবহু নকল করে ফেলেছে। এমনকী জলছাপও নকল হয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই কাগজে নোট ছাপা হলে আগামীদিনে তারা সব ফিচারই নকল করে ফেলতে পারবে। এই কাগজে বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকায় তা সহজে ছিঁড়ছে না। এমনকী, আসল নোটে আঙুল দিয়ে টোকা মারলে যে ধরনের শব্দ হয়, নকল নোটেও অবিকল সেই শব্দ শোনা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s