আসানসোলে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় আক্রমণ মুসলিমদের, পোড়ানো হলো শ্রীরামের মূর্তি

গত ২৭শে মার্চ, মঙ্গলবার আসানসোলের চাঁদমারি এলাকা থেকে একটি রামনবমীর একটি মিছিল চলছিল। মিছিলটি যখন শ্রীনগর রাস্তার মোড়ের কাছে পৌঁছায়, তখন বেশকিছু মুসলিম মিছিল আটকায় এবং বলে যে এখানে আমাদের ‘ইস্তমা’ আছে, তাই এখন থেকে মিছিল যাবে না। এ নিয়ে মিছিলে থাকা হিন্দুদের সঙ্গে মুসলিমদের বচসা বাঁধে। মিছিলে অংশ নেওয়া একজন জানিয়েছেন যে, যে মাঠে ইস্তমা হচ্ছিলো তার পাশে একটা বড়ো  ঘর আছে, যেখানে আগে থেকেই মুসলিমরা বোমা গুলি নিয়ে প্রস্তুত ছিল। হিন্দুদের মিছিল এগিয়ে যাবার চেষ্টা করলে মুসলিমরা আল্লাহু আকবর, নারায়ে তাকবীর শ্লোগান দিয়ে শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে বোমা গুলি ছুঁড়তে থাকে। হিন্দুরা নিরস্ত্র থাকায় তারা এই আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেনি। মুসলিমরা মিছিলের সামনে থাকা রাম  নবমীর শোভাযাত্রার ট্যাবলো গাড়িটিতে থাকা শ্রী রামের মূর্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুসলিমরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও বোমা ছোঁড়ে এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশেপাশে থাকা হিন্দুবাড়িগুলোতে নির্বিচারে ভাঙচুর চালায় মুসলিম জনতা। বেশ কয়েকজন পুলিসকর্মী আহত হয়। পরে ধীরে ধীরে পুরো আসানসোল জুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়ে ওকে রোড, মহুয়াডাঙাল, রামকৃষ্ণডাঙাল, আমবাগান এলাকা এবং আসানসোল স্টেশন এলাকায়। স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে একের পর এক বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস লাঠিচার্জ করে, পরপর টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। কিন্তু হামলাকারীরা পিছু না হটে বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে থাকে। দাউদাউ করে বাড়িগুলিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাও ছোঁড়া হয়। আতঙ্কে বহু লোকজন কাঁদতে কাঁদতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বোমা গুলির মধ্যেই আটকে পড়ে বেসরকারি একটি স্কুলের পড়ুয়ারা। তারাও আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। কোনও রকমে অভিভাবকরা এসে তাদের বাড়ি নিয়ে যান।
এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া থেকেও পুলিসবাহিনী আনা হয়। কিন্তু লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটিয়েও দীর্ঘক্ষণ পরিস্থিতি পুলিস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। হামলাকারীরা ইট, পাথর এবং বোমা নিয়ে পুলিসকে তাড়া করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামেন খোদ পুলিস কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা সহ অন্যান আধিকারিকরা। এদিন শহরের অধিকাংশ জায়গা বনধের চেহারা নেয়। খুব কম যানবাহন চলাচল করে। রেলপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতে থাকে হামলাকারীরা। আসানসোলের মহকুমা শাসক প্রলয় রায়চৌধুরী বলেন, রেলপাড়ের বেশ কিছু জায়গায় মঙ্গলবার রাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিস কমিশনার বলেন, সবাইকে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s