ভারতে রোহিঙ্গা মুসলিম থাকলেও, পাকিস্তান থেকে আগত শরণার্থী হিন্দুদেরকে তাড়িয়ে দিলো রাজস্থান সরকার

ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল।  সেই সময় পাকিস্তান ও  বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের কথা কেউ মনে  রাখেনি। আর সেই কারণে দীর্ঘ সাত দশক ধরে পাকিস্তানে থাকা হিন্দুরা মুসলিম মৌলবাদীদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে। তাদের মা-বোনেদের ধর্ষিতা হতে হয়েছে, ধর্মান্তরিত হতে হয়েছে। তবুও তাদের যন্ত্রণার খবর ভারতে পৌঁছায়নি। অনেক হিন্দু পরিবার নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন । ভেবেছিলেন, ভারত একশো কোটি হিন্দুর দেশ। এখানে জান, মান, ধর্মের নিরাপত্তা মিলবে। কিন্তু এ দেশ তাঁদের ঠাঁই দেয়নি, কেন্দ্রে তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী সরকার থাকা সত্বেও।  উল্টে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে পাকিস্তানে, যে দেশ তাঁরা ছাড়তে চেয়েছিলেন। আর তার ফলেই মারাত্মক সংকটে পড়েছেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হিন্দু বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী এলাকার এই মানুষগুলো ভারতে এসেছিলেন আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু না প্রশাসন, না সিআইডি- কেউ তাঁদের এ দেশে থাকতে দেয়নি। এমনকি তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী কেন্দ্র সরকার তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি।  ফেরত পাঠিয়েছে পাকিস্তানে। অভিযোগ, এবার সেখানে ফেরার পর তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। নাহলে মহিলা সহ পরিবারের সদস্যদের বাঁচানো যাবে না। রাজি না হলে চলছে নির্মম অত্যাচার। যেমন সিন্ধু প্রদেশের মাতালি গ্রাম। সীমান্ত এলাকার এই গ্রামে কয়েকদিনের মধ্যে  ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য হতে চলেছেন ৫০০-র বেশি হিন্দু। গত ২ বছরে হাজারের মত পাক হিন্দু রাজস্থানের যোধপুরে আশ্রয় চাইতে এসেছিলেন। কিন্তু ৯৬৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে জোর করে। এঁদেরই একজন চাণ্ডু ভীল। সিআইডি তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে চায় দেখে তিনি রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। স্পেশাল বেঞ্চ তাঁর ফেরত যাওয়ার নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশও দেয়। কিন্তু তার আগেই সিআইডি জোর করে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করে তাঁর গোটা পরিবারকে। এবার পাকিস্তানে তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। এমন বহু পরিবার পাকিস্তানে বৈষম্যের শিকার হয়ে এ দেশে এসেছিল। ফের যেতে বাধ্য করা হয়েছে তাদের। আর ধর্ম বদলানোর চাপের জেরে পাকিস্তানের বহু গ্রামে হিন্দু সংখ্যা শূন্যে এসে দাঁড়াতে চলেছে।

পাকিস্তানের হিন্দুদের জন্যে সরকার,বিরোধী কেউই চিন্তিত না হলেও মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে  চিন্তিত ভারতের বুদ্ধিজীবী থেকে সরকারের নেতা মন্ত্রীরা। তারা রোহিঙ্গা মুসলিমকে নিয়ে এসে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন এবং সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। কিন্তু মূর্খ নেতাদের ভুলে দেশভাগের ফলে পাকিস্তানের হিন্দুদের অধিকার রয়েছে ভারতে বসবাস করার। কিন্তু বিচিত্র দেশ এই ভারত। পাকিস্তানের হিন্দুদের যন্ত্রনা আমেরিকা কিংবা ব্রিটেনের সরকারের কানে পৌঁছালেও কাছের ভারতের সরকারের কানে পৌঁছায় না। ফলে  রাজস্থানে নামেই বিজেপি সরকার চললেও তা যে হিন্দু বিরোধী তা আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।  এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,  “রাজস্থানে যে একটা হিন্দু বিরোধী সরকার চলছে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। কিন্তু এই ইস্যুতে কেন্দ্রের অবস্থান কি? মোদী সরকার কিভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে? যাদের সাথে ভারতের মাটি, ভারতের  সভ্যতা, সংস্কৃতি – কোনো কিছুর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই, সেই রোহিঙ্গারা যদি হাজার হাজার সংখ্যায় ভারতের মাটি দখল করে থাকতে পারে, তাহলে পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে বিতাড়িত এই হিন্দুরা কেন থাকতে পারবে না?  এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের নীতি স্পষ্ট হওয়া উচিত। আমাদের স্পষ্ট মতামত, বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে যে হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদেরকে ভারতে থাকার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যারা আর্থিক অথবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বসবাস করছে, জাল কাগজপত্র তৈরী করে এখানে চাকরি করছে, ব্যবসা করছে – তাদেরকে বিদেশী বলে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s