অপহৃত ৩৯জন ভারতীয়কে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেট,সংসদে জানালেন সুষুমা স্বরাজ

 ইরাকের মসুলে অপহৃত ৩৯ জন ভারতীয়কে হত্যাই করেছিল আইএসআইএস বাহিনী! কেউ বেঁচে নেই। গতকাল ২০শে মার্চ, মঙ্গলবার  সংসদে বিবৃতি দিয়ে এই তথ্য জানালেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। নিহতদের মৃতদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং। এদিকে এই ঘোষণা নিয়ে সরকার বনাম বিরোধীদের মধ্যে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নিতহদের পরিবারবর্গের একাংশও কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণে প্রবল ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, চার বছর ধরে আশায় রাখার পর তাঁদের কোনও সংবাদ না দিয়ে মোদি সরকার আচমকা আজ সংসদে ঘোষণা করেছে যে তাঁদের প্রিয়জন আর বেঁচে নেই! টিভি দেখে একথা জানতে হচ্ছে আমাদের? আর সেই ক্ষোভের সুরে সরকারকে সংসদে চেপে ধরে চরম অস্বস্তিতে ফেলতে চাইল বিরোধীরাও। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, সরকার অত্যন্ত গর্হিত আর নিষ্ঠুর কাজ করেছেন। যে পরিবারবর্গকে বিগত চার বছর ধরে এই সরকারই মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে যে তাঁদের পরিবারের মানুষটি বেঁচে আছেন, আজ সেই মানুষগুলোর মৃত্যুর সংবাদ প্রথমেই তাঁদের পরিবারকে দেওয়া উচিত ছিল। আর এখন সরকারকে জানাতে হবে কেন এতদিন ধরে এবং কিসের ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে এই ভারতীয়রা বেঁচে আছেন? সুষমা স্বরাজ আজ বলেছেন, গতকালই আমাদের কাছে ডিএনএ রিপোর্ট এসেছে। সেই ফরেনসিক রিপোর্টেই জানা যাচ্ছে মসুলে পাওয়া ৩৯ জনের মৃতদেহ সেই অপহৃত ভারতীয়দেরই। তিনি বলেছেন, বিরোধীরা যে এভাবে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীতিহীন রাজনীতি করতে পারে এটা তিনি কল্পনাও করেননি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ৩৯ জন ভারতীয় ইরাকে গিয়ে নিখোঁজ ছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসেও স্বয়ং বিদেশমন্ত্রীই সংসদে বলেছিলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন প্রত্যেকেই বেঁচে আছেন। কারণ ওই অপহৃতদের মৃত্যু হয়েছে এরকম কোনও প্রমাণ অন্তত পাওয়া যায়নি। আর যতক্ষণ মিলছে না ততক্ষণ মৃত ঘোষণা করতে সরকার ইচ্ছুক নয়। সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, আমরা সবরকমভাবে আশাবাদী ওই অপহৃতরা বেঁচে আছেন। কোনও প্রমাণ ছাড়া কাউকে মৃত ঘোষণা করা পাপ। আমরা সেই পাপ করতে পারি না।
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে মসুলে ওই ভারতীয়রা অপহৃত হলেও ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোনও খোঁজ করার চেষ্টাও করা যায়নি। কারণ মসুল ছিল আইএসআইএসের দখলে। গত বছর জুন মাসে মসুল জয় করে ইরাকের সেনা, কুর্দিশ সেনা এবং মার্কিন সেনার মিলিত বাহিনী। মসুল মুক্ত হয় আইএসআইএসের দখল থেকে। এরপরই ভারত তৎপর হয়। কারণ দেশের অন্দরে প্রবল চাপ তৈরি হয় এবার সেই অপহৃতদের খোঁজ করা হোক। সত্যিই তাঁরা বেঁচে আছে কিনা। সুষমা স্বরাজ সেই সময় বলেছিলেন, ভারত সরকার এখনও মনে করে না যে ওই ভারতীয়রা মৃত। এই ঘোষণায় আশ্বস্ত হয়েছিল ৩৯ জনের পরিবার। সেই খোঁজ নিতে বিদেশমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি কে সিং গিয়েও ছিলেন ইরাকে। এদিকে এরপরই গত অক্টাবরে প্রত্যেকের পরিবারকে বলা হয়েছিল ডিএনএ নমুনা প্রদান করতে। কেন? সেকথা তাঁদের জানানো হয়নি। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল মসুলের গণকবর থেকে পাওয়া প্রতিটি মৃতদেহের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া পরিচয়। মসুল থেকে দূরে বারুশে প্রাপ্ত একটি গণকবরে মৃতদেহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় ডিএনএ। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী আজ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে ওই ৩৯ জনই বেঁচে নেই। আজ সংসদে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, আমি কাউকে মিথ্যা আশা দিইনি। নিশ্চিত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সংসদে প্রথম ঘোষণা করা রীতি, তাই আজ এখানেই আগে জানিয়েছি। ইরাক সরকার ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ডিপ পেনিট্রেশন র্যা ডারের সাহায্যে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। আদতে ৪০ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহৃতদের মধ্যে একজন আইএসআইএসের চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। এবং ২০১৪ সালে ভারতে ফিরেই হরজিৎ মাসিন নামের সেই ব্যক্তি বলেছিলেন, প্রত্যেককে আইএসআইএস গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু সেই সময় সেকথা বিশ্বাস করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর কথাই অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ক্ষিপ্ত পরিবারবর্গ আজ বলেছেন, ডিএনএ রিপোর্ট না দেখালে তা বিশ্বাস করবে না!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s