দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী ফারুক টাকলাকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতে আনলো সিবিআই

প্রথমে ১৯৯৩ সালের ২২ জানুয়ারি ১৮ জনের একটি দল ভারত থেকে দুবাই পৌঁছায়। তাদের দুবাইয়ের বিশেষ গেস্ট হাউসে তোলা এবং সেখান থেকে নিরাপদে করাচির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া। করাচি থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে ওই ১৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল আরডিএক্স কোথায় কীভাবে প্ল্যান্ট করতে হবে তা নিয়ে। পরের ধাপে আরও ১২ জনকে একই প্রশিক্ষণ। ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মেমন ভাই ও তাদের পরিবারকে দুবা‌ই এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসা। গেস্ট হাউসে রাখা। দাউদের নির্দেশে তার দুবাই নেটওয়ার্কের সবথেকে বিশ্বস্ত সঙ্গী তৌফিক জরিওয়ালার সঙ্গে গোটা কাজটা করেছিল ইয়াসিন মহম্মদ মনসুর ফারুক। ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের চক্রান্তে প্রতিটি ধাপের সঙ্গে ফারুক যুক্ত। তার পরিচিতি ফারুক টাকলা নামে। সৌদি আরব থেকে সেই দাউদ ঘনিষ্ঠ টাকলাকেই দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে সিবিআই। কিন্তু কীভাবে তাকে দিল্লি নিয়ে আসা সম্ভব হল, সেই তথ্য জানানো হয়নি। ঠিক যেভাবে একদিন ভোরে দিল্লি রেল স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ইয়াকুব মেমনকে। আজও সিবিআই বলেছে, দিল্লি এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ফারুক ছিল লাইনে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যা ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে বিরাট সাফল্য। আবু সালেম, ইয়াকুব মেমন, ফারুক টাকলা, একের পর এক সঙ্গীকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আসায় দাউদের শক্তি কমছে। প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় গোয়েন্দারা যেভাবে জাল গোটাচ্ছে তাতে এবার কি দাউদের পালা? কারণ গুরুতর অসুস্থ দাউদ নিজেও পুরনো দাপট খুইয়ে শর্তসাপেক্ষে দেশে ফিরতে আগ্রহী।
ধৃত ফারুক টাকলাকে জেরা করে দাউদ সাম্রাজ্যের বহু অজানা তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস গোয়েন্দাদের। এই টাকলাই ছিল ভারত থেকে দুবাই হয়ে পাকিস্তানে যাওয়া তাবৎ চক্রান্তকারীদের আশ্রয় দেওয়া ও গন্তব্যে পাঠানোর প্রধান মাধ্যম। ১৯৯২ সালেই ফারুক পাকাপাকি দুবাই চলে যায়। ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ দাউদ দুবাই থেকে করাচিতে চলে গেলেও ফারুক যায়নি। সে দুবাইতেই রয়ে যায়। কারণ ফারুক প্রধানত দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিমের দক্ষিণ হস্ত। দুবাই ও জেড্ডা সাম্রাজ্যটির দায়িত্ব আনিস ইব্রাহিমের। ফারুক এই সাম্রাজ্যের হাওলা অপারেটর। ভারতের আইপিএল ক্রিকেটের বেটিং সিন্ডিকেটের লেনদেনও দুবাই থেকে ফারুকই দেখভাল করে এসেছে। ফারুক ধরা পড়ায় এখন সেই বেটিং সিন্ডিকেট ধাক্কা খাবে।
দুপুর দেড়টার সময় ট্রেডিং বন্ধ হয় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে। লাঞ্চ ব্রেক। সেই কারণে ১টা নাগাদ প্রথমে একটা বেল বাজানোই ঩নিয়ম দালাল স্ট্রিটে। ওটাকে বলা হয় ফার্স্ট বেল। এরপর দেড়টার সময় দ্বিতীয় বেল। অর্থাৎ ট্রেডিং বন্ধ। তাই ওই ১টা থেকেই শেয়ারমার্কেটে আসা লোকজন বেরতে শুরু করে বিল্ডিং থেকে। ১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ দ্বিতীয় বেল বাজার আগেই ১টা ২৮ নাগাদ একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা স্টক এক্সচেঞ্জ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেটা ছিল শুরু। এরপর বুন্দের মসজিদের কাছে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ সওয়া দুটোয়। দুটো পঁচিশে এয়ার ইন্ডিয়া বিল্ডিং এর পোর্টিকোয়। আড়াইটের সময় পরবর্তী বিস্ফোরণ। এবার দাদারের শিবসেনা অফিসের কাছে লাকি পেট্রল পাম্প। দুটো পঞ্চান্ন মিনিটে ওরলি পাসপোর্ট অফিসের কাছে একটি সরকারি দোতলা বাস শূন্যে লাফিয়ে উঠে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল। এরপর জুহু সেন্টুর, এয়ারপোর্ট সেন্টুর, সি রক। তিনটি হোটেলে। এই ছিল মুম্বই বিস্ফোরণ। ২৮০ জনের মৃত্যু। হাজার ছাড়িয়ে যায় আহতের সংখ্যা। বিস্ফোরণের আগেই সকাল ৯টার ফ্লাইটে প্রধান চক্রান্তকারী মেমন ভাইদের গোটা পরিবার চলে যায় দুবাই। ফারুক টাকলা তাদের এয়ারপোর্ট থেকে একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যায়। তারা যখন ঩লাঞ্চ করছে তখনই বিস্ফোরণ শুরু মুম্বইতে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s