১৪ই ফেব্রুয়ারী বাঙালির সংকল্প দিবস

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই পোস্টটি আমাদের সাইট থেকে হারিয়ে যায়। তাই এই পোস্টটি পুনরায় করা হলো।

প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার অত্যাচারিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত হিন্দুদের কাছে হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠা দিবস ১৪ই ফেব্রূয়ারি এক বিশেষ দিন। কারণ এই দিনটি হলো জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে অংশীদার বাংলার মানুষদের একত্রিত হওয়ার দিন, এই দিনটি আগামী দিনের লড়াইতে শপথ নেবার দিন। প্রতিবছরের মতো এই বছরও হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাদিবস পালিত হলো উৎসাহ এবং আবেগের সঙ্গে। ১৪ই ফেব্রূয়ারি, ২০১৮ ছিল হিন্দু সংহতির দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই দিনটিতে ধর্মতলার রানী রাসমণি এভিনিউতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা থেকে বাসে,ট্রেনে করে হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থকেরা এসে পৌঁছায়। তাদের উপস্থিতিতে রানী রাসমণি এভিনিউ-এর সবকটি লেন ভরে যায়। সভার প্রথমে ভারতমাতার ছবিতে মাল্যদান ও প্রদীপ জ্বালানো হয়। ভারত মাতার ছবিতে মালয় দেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়।  তারপর বৃহৎ হিন্দু সমাজের অংশ আদিবাসী ভাইবোনেরা নৃত্য পরিবেশন করে। প্রথমে দক্ষিণবঙ্গের আদিবাসী নৃত্য পরিবেশিত হয়। তারপর উত্তরবঙ্গের আদিবাসী নৃত্য পরিবেশিত হয়।  হিন্দু সংহতির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর  জেনারেল জি  ডি বক্সী, পূজ্যপাদ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ, হরিদ্বারের ভোলাগিরি আশ্রমের স্বামী তেজসানন্দজী মহারাজ, আমেরিকা থেকে আগত বিশিষ্ট শিল্পপতি রাহুল রায় এবং আরো অনেকে। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়, সহ সভাপতি শ্রী দেবদত্ত মাজি মহাশয়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস মহাশয়। এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী স্বামীর গুহরায় মহাশয়। সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন শ্রী তেজসানন্দজি মহারাজ। তিনি তার বক্তব্যে সমগ্র বাংলার হিন্দু সমাজকে আহ্বান জানান জিহাদির বিরুদ্ধে লড়াইতে সমগ্র হিন্দু সমাজকে একত্রিত হবার। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জি ডি বক্সী তার বক্তব্যের শুরুতে পুণ্যভূমি বাংলাকে প্রণাম জানান। তিনি বলেন যে এই বাংলা হলো পুণ্যভূমি,কারণ এই বাংলা  ভারতমাতার মুক্তির জন্যে বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে। তিনি সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন ”আপনারা হয়তো জানেন না, বঙ্গসন্তান নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু দেশ স্বাধীন করেছিলেন, মহাত্মা গান্ধী নন। দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের ২৬,০০০সৈন্য প্রাণ দিয়েছিলো। তার ফৌজের করা লড়াইতে ভয় পেয়ে ইংরেজ দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। আর সেই নেতাজির স্মৃতির উদ্দেশে স্বাধীনতার পর নেতারা কিছু করেননি। আপনারা শুনে অবাক হবেন যে নতুন দিল্লির রাজপথে নেতাজির কোনো মূর্তি নেই”। তিনি সভামঞ্চ থেকে দাবি তোলেন যে নতুন  দিল্লির রাজপথে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি বসাতে হবে।

 এরপর হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রথমে সভায় উপস্থিত হিন্দু সংহতির সমস্ত যোদ্ধাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে, ”আজ সারা পৃথিবীতে কুরুক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইসলাম আর অন্যদিকে সারা বিশ্বের মানবসভ্যতা। আর এই বাংলার আকাশে আজ ইসলামের কালো মেঘ। ইসলামের বিরুদ্ধে আমাদের পূর্বপুরুষরা লড়াই করেছে,আজ আমরা সেই লড়াইয়ের উত্তরসূরি। আমাদের আজ সেই লড়াই লড়তে হবে”।  এছাড়া তিনি তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, একটি বাংলায় একটি কথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতা নাকি নির্ধারণ করে মুসলমানরা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন যে, ওরা(পড়ুন মুসলিমরা) ৩২%, আমাকে তো ওদের দেখতেই হবে। কেন?কারণ মুসলমানরা নাকি ভোট দিয়ে তৃণমূলকে জিতিয়েছে। তিনি এপ্রসঙ্গে পরিসংখ্যান পেশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে, মুসলমানের ভোটে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় এসে থাকে, তাহলে বাংলার সবথেকে মুসলিম জনসংখ্যার জেলা মুর্শিদাবাদে( মুসলিম ৬৭%) তৃণমূলের একজনও এমপি নেই কেন? মুর্শিদাবাদে ২২জন এমএলএ -এর মধ্যে মাত্র ৫ জন এমএলএ তৃণমূলের।মালদহ (৫২% মুসলিম) জেলায় ১২জন এমএলএ-এর মধ্যে একজনও তৃণমূলের এমএলএ নেই। উত্তর দিনাজপুর (৫১% মুসলিম) জেলায় ৯টি এমএলএ-এর মধ্যে মাত্র ৪টি টিএমসি-এর। আর এমপি সিপিআই(এম)-এর মহম্মদ সেলিম। কিন্তু যে জেলাগুলিতে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ যেমন,  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা (৯৫% হিন্দু)-এর ১৯জন এমএলএ-এর মধ্যে ১৮জন এমএলএ তৃণমূলের; পুরুলিয়া জেলার (৯২.৫% হিন্দু ) ৯জন এমএলএ-এর মধ্যে ৭জন এমএলএ তৃণমূলের। তাহলে আমরা কি দেখছি যে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, সেখানে তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়েগিয়েছে, আর যেখানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে তৃণমূল ভালো ফল করেছে। তাই তৃণমূল মুসলিমদের ভোট ক্ষমতায় জিতেছে, এর থেকে বড়ো ভাঁওতা আর কিছু হতে পারে না”। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন যে, আপনি হিন্দুদের ভোটে  জিতে ২০১৮ সালের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তির খাতে বরাদ্দ করেছেন ৩,৫০০ কোটি টাকা; আর মাদ্রাসা শিক্ষার জন্যে বরাদ্দ করেছেন ৩,৭০০ কোটি টাকা। আজ আপনার কাছে জানতে যাই, যে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসবাদী তৈরি হয়, সেই মাদ্রাসা শিক্ষার জন্যে বেশি টাকা বরাদ্দ করে, আপনি এই বাংলাকে কোন পথে নিয়ে যেতে চান?এছাড়াও তিনি এই বাংলায় হিন্দুদের ওপর ঘটে চলা অত্যাচারের খবর মিডিয়া ও সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ না করা জন্যে তাদের একহাত নেন। তিনি বলেন যে, ”প্রতি বছর মিডিয়া গুজরাট দাঙ্গার কুতুবুদ্দীনের ছবি প্রকাশ করলেও যে জিহাদিরা গোধরা স্টেশনে ৫৬ জন করসেবককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, তা তারা দেখতে পায়না। কারণ তখন এদের চোখে সেক্যুলারিজম-এর চশমা লাগানো থাকে”। তিনি বাংলার হিন্দুদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে মুসলিম তোষণে কেউ কম যায় না। কারণ তৃণমূল ক্ষমতায় থেকে মুসলিম তোষণ করছে আর বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্যে মুসলিম তোষণ করছে।
হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় তার বক্তব্যে বলেন যে আজ সারা পৃথিবীতে ইসলামের সঙ্গে মানবতার লড়াই চলছে। আর সেই লড়াইতে যাতে বেশি রক্তপাত না হয়, বেশি মানব ক্ষয় না হয়,সে জন্যে ভারতের মুসলমানরা যাদের পূর্বপুরুষরা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল, তাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষের ধর্মে ফিরে এস। তিনি হিন্দু সংহতির কর্মীদেরকে বলেন, আমাদেরকে মুসলিমদেরকে নিমন্ত্রণ দিতে হবে,ওদের ভাষায় দাওয়াত দিতে হবে হিন্দু ধমে ফিরে আসার জন্যে। এই সভায় হুসেন আলীসহ তার ১৪ জনের পরিবার মুসলিম ধর্ম ত্যাগ করে গ্রহণ করেন। ওই পরিবারকে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় পুস্পস্তবক দিয়ে বিরাট হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগতম জানান। ঐসময় সভায় উপস্থিত হাজার হাজার কর্মী সমর্থক উঠে দাঁড়িয়ে স্বাগতম জানানা হুসেন আলী ও তার পরিবারকে। শ্রী ঘোষ মহাশয় তার বক্তব্যে আরো বলেন যে ইজরায়েল, যা ইহুদিদের দেশ, তা হিন্দুদের প্রেরণা হওয়া উচিত। তারা তাদের মাতৃভূমি থেকে মুসলমানদের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে। কিন্তু তারা ১৮০০ বছর ধরে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার জন্যে অপেক্ষা করেছে,মনে সংকল্প করেছে। প্রতিবছর নববর্ষের দিন তারা বাড়ির ছোটদেরকে বলেছে, Next Year to Jerusalem , কিন্তু প্রজন্মের পর  প্রজন্ম কেটে গিয়েছে,কিন্তু তারা জেরুজালেমে ফিরতে পারেনি। কিন্তু শেষপর্যন্ত ইজরায়েল জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি বেঞ্জামিন নেতানিহায়ু সব দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে। ইজরায়েলের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পাঠ করেন শ্রী ঘোষ মহাশয়। সেই প্রস্তাব সভায় উপস্থিত হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থকেরা ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে সমর্থন জানান। এছাড়াও ঘোষ মহাশয় সভা মঞ্চ থেকে দাবি তোলেন যে বাংলায় হিন্দুর রক্ষাকর্তা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে অবহেলা করেছে। তাই তিনি দাবি তোলেন যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে শ্রদ্ধা জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ”শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি টার্মিনাস করতে হবে। এই দাবি জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন জানা কেন্দ্র সরকারকে চিঠি লিখতে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s