ভারতে প্রবেশ করার জন্যে পাকিস্তান সীমান্তে অপেক্ষা করছে কয়েকশো পাক-জিহাদি

গোয়েন্দা ইনপুট আগেই ছিল। অনুপ্রবেশের জন্য কাশ্মীর সীমান্তের ওপারে বিপুল সংখ্যক জঙ্গি অপেক্ষা করছে জানিয়ে গতকাল ২৬শে ফেব্রুয়ারী, সোমবার মুখ খুললেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে ভাট। সেইসঙ্গে দোসর হিসেবে কাজ করছে পাক সেনাবাহিনীর সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন। যে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ রুখতে তাই বাহিনীকে সদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি,  ত্রাল থানায় জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক হিজবুল সদস্যের।
এদিন জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি সেন্টারে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভাট। তিনি জানান, লেপা উপত্যকা থেকে মান্ডাল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ  এলাকা জুড়ে অপেক্ষায় রয়েছে ৩০-৪০টি জঙ্গি দল। সুযোগ পেলেই তারা কাশ্মীরের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে পড়বে। আর এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাক রেঞ্জার্স। সেনাবাহিনীর ওই পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘ওপারে লঞ্চিং প্যাডে জঙ্গিদলের অপেক্ষা করার খবর রয়েছে। আমাদের অনুমান, বরফ যেহেতু কমে যাচ্ছে, সেই সুযোগে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে। কিন্তু, তা ঠেকাতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা নিশ্চিত যে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী অনুপ্রবেশ করাতেই পাকিস্তান গুলি চালায়। কুপওয়ারা ও তাংধারে একই ঘটনা ঘটেছিল।’’
আর রাজ্যে জঙ্গি অনুপ্রবেশ যে আটকানো যাচ্ছে না, সোমবার আর একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। এদিনই পুলওয়ামার ত্রালে একটি থানায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। উদ্দেশ্য ছিল, তাদেরই এক সঙ্গীকে বের করে আনা। যদিও সঙ্গীদের ছোঁড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণে থানাতেই মৃত্যু হয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি মুস্তাক আহমেদ চোপানের। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার ত্রালে। ঘটনায় জখম হয়েছেন কনস্টেবল মেহরাজ দিন। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ত্রাল থানা থেকে বোরখা পরে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল মুস্তাক। সেইমতো তার সঙ্গীরা পরিকল্পনা মাফিক থানার অদূরে হাজির হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, গ্রেনেড ছুঁড়ে পুলিশকর্মীদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে মুস্তাককে বের করে আনা। মুস্তাকও সেই সুযোগ নিতে থানার সদর দরজার সামনে হাজির হয়েছিল। কিন্তু, কাল হল সঙ্গীদের ছোঁড়া গ্রেনেডই। বিস্ফোরণে প্রাণ গেল মুস্তাকের। রাজ্য পুলিশের ডিজি এস পি বৈদ ট্যুইটারে একথা জানিয়েছেন। বারামুলা জেলার সোপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মুস্তাককে। কিন্তু, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত একটি মামলার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয় ত্রালে। এই ঘটনার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের উপর তিনবার হামলার ঘটনা ঘটল।
শুধু সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নয়, কুপওয়ারায় পাকিস্তানের ‘ব্যাট’ বাহিনীকে আটকে দেওয়া, উরি সেক্টরে ব্যাপক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, জঙ্গিহানায় দুই পুলিশকর্মীর মৃত্যু, স্থানীয় যুবকদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে যোগ দেওয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন ভাট। পাক সেনাবাহিনীর নির্দেশে নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন গ্রামগুলি খালি হয়ে যাচ্ছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ওই সেনাকর্তা বলেন, ‘‘ওরা গ্রামবাসীদের ভালো চায় না। বাসিন্দাদের কয়েকটি গ্রাম খালি করে দিতে বলেছিল। কিন্তু, আমার কাছে খবর রয়েছে ওই গ্রামগুলি খালি হয়ে যায়নি।’’
অন্যদিকে, জম্মুর সাম্বা সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখে দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ভোর পাঁচটা নাগাদ সীমান্তে কয়েকজন সন্দেহভাজনের অস্বাভাবিক ঘোরাঘুরি নজরে পড়ে বিএসএফের। তখনই তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন কর্তব্যরত জওয়ানরা। যার জেরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় জঙ্গিদের দলটি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s