মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে গ্রেপ্তার জেএমবি জঙ্গি নূর আলম মোমিন

চলতি বছরের গোড়ায় বুদ্ধগয়ায় দলাই লামার সফরের সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে হায়দরাবাদে গোপন বৈঠকে বসেছিল জেএমবি৷ বিস্ফোরণের যড়যন্ত্রে জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নুর আলম মোমিন নামে আরও এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ৷ তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীদের দাবি , ১৮ জানুয়ারি বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে নভেম্বরে হায়দরাবাদে বৈঠকে বসে জেএমবি -র চাঁইরা৷ নুরও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন৷ তাঁকে জেরা করে আরও তিন সন্দেহভাজনের নাম জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা৷ আদিল , উমর , আব্দুল করিম (জুনিয়র ), পয়গম্বর শেখ ও কালু নামে পাঁচ জনের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছেছিলেন নুর৷ মাসখানেক আগে জেএমবি -র ধুলিয়ান মডিউলের পয়গম্বর শেখকে গ্রেপ্তারের পর রাজ্যে জেএমবি -র বাড়বাড়ন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসে৷ একে -একে ধরা পড়েন আহমেদ আলি (কালু), শিস মহম্মহ -৪ জন৷ খোঁজ চলছে উমর , আদিল , করিমদের৷ ইতিমধ্যে ধৃত পয়গম্বর , জামিরুল , শিস মহম্মদকে জেরা করেই নুরের নাম জেনেছিলেন তদন্তকারীরা৷ কয়েক দিন ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তারের  চেষ্টা চলছিল৷ অবশেষে নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে গত ২২শে ফেব্রূয়ারি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামশেরগঞ্জের অনুপনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়৷ জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বলেন , ‘অভিযুক্তকে এসটিএফ গ্রেপ্তার  করেছে৷ তার কাছ থেকে অনেক গোপন তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ’গোয়েন্দাদের দাবি , ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলার একটি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলেন ওই যুবক৷ ২০১৩ সালে বোরখা , ওড়না , স্কার্ফ বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন৷ কাঁঠালপাতাও বিক্রি করতেন৷ ধৃত আহমেদ আলি ওরফে কালুর কাছ থেকেই ব্যবসার জিনিস নিতেন৷ ধর্মীয় বইও বিক্রি করতেন৷ তাঁর কাছ থেকে হিজাব , বই ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে৷ পাসপোর্টটির বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ব্যবসার সূত্রেই জেএমবি সদস্যের সংস্পর্শে আসা নুরের৷ ধীরে ধীরে সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠা৷ গোয়েন্দাদের দাবি , নভেম্বরে মুুর্শিদাবাদ থেকে হায়দরাবাদে গিয়ে ১৫ দিন ছিলেন নুর ও তাঁর সঙ্গীরা৷ হায়দরাবাদের ওই বৈঠকে শুধু বিস্ফোরণের পরিকল্পনাই নয় , সংগঠন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া , দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি -জাল বিস্তার বিষয়েও আলোচনা হয়৷ অনেককে পরে চেন্নাইয়ে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়৷ শুক্রবার দুপুরে নুরের গ্রামে গিয়ে দেখা যায় , বিশাল দোতালা বাড়ি৷ দু’বছরের মধ্যে সামান্য একটি বাড়ি এত বড় হল কী ভাবে , খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ স্থানীয়দের দাবি , এলাকায় সে ভাবে কারও সঙ্গে মিশতেন না ওই যুবক৷ গতকাল ২৩শে ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার নুরকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হলে পুলিশের আর্জির ভিত্তিতে ১০ দিন এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s