হিন্দু সংহতির প্রাণপুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের পুলিশের

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার কলকাতার ধর্মতলার রানী রাসমণি এভিনিউতে হিন্দু সংহতির দশম বার্ষিক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই জনসভাতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থক উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষ মুহুর্তে সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়কে গ্রেপ্তার করে। খবরে প্রকাশ এই গ্রেপ্তার স্বয়ং মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ IPC-এর ৩০৭, ৩২৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু পুলিশের এই গ্রেপ্তারীতে অনেকেই চমকে গিয়েছেন। কারণ গত ২০১৪সালের নভেম্বরে এই ধর্মতলায় জমিয়তে-উলেমা-ই-হিন্দের সভা ছিল। সেই সভার নেতা ছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, যিনি বর্তমানে তৃণমূল সরকারের গ্রন্থাগার মন্ত্রী। সেই সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও পুলিশকে প্রচুর মারধর করা হয়। মুসলিমদের মারা ইঁটের আঘাতে কলকাতা পুলিশের তিনজন ডেপুটি কমিশনারের মাথা ফেটে যায়। তারা দৌড়ে ওখান থেকে পালিয়ে ডালহৌসি ক্লাবে আশ্রয় নেন। ভাঙচুর করা হয় ডালহৌসি ক্লাবেও। খবর করতে গেলে ২৪ ঘন্টার সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ২৪ ঘন্টার নিউজভ্যানে ভাঙচুর চালায় মুসলিম জনতা। কিন্তু সেদিনের সেই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের দায়ের করা সেই অভিযোগের বর্তমানে কি অবস্থা, তার খবরও রাজ্যের মানুষের জানা নেই। সেদিনের সেই অপরাধী তোষণের সুবিধা লাভ করে বর্তমানের গ্রন্থাগার মন্ত্রী। কিন্তু সেই ২৪ ঘন্টার সাংবাদিকের মাথায় হালকা আঘাতেই চাটুকার কলকাতা পুলিশ নড়েচড়ে বসলো এবং শ্রী তপন ঘোষকে গ্রেপ্তার করলো। কলকাতা পুলিশের এই হিন্দ-মুসলিমের ভেদাভেদমূলক আচরণে বাংলার হিন্দু জনগণ স্তম্ভিত। শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় মঞ্চের ওপর থাকা সত্বেও তার ওপর খুনের চেষ্টা, মারধর করার অভিযোগ আনাতে অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবীও স্তম্ভিত।

তবে এই ঘটনা ঘিরে সংবাদপত্রগুলো একযোগে হিন্দু সংহতির বদনাম করতে মাঠে নেমে পড়েছে। বাংলার প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র হিন্দু সংহতির দোষ দেখতে পাচ্ছে এই ঘটনায়। কিন্তু বিগত দশ বছর ধরে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ হিন্দুর একমাত্র আশা-ভরসা যে হিন্দু সংহতি, সে বিষয়ে কোনোদিন এই মিডিয়াকে লিখতে দেখা যায়নি। যদিও ঐদিনের সভায় শেষলগ্নে সাংবাদিকদের অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও সাংবাদিকরা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করা পরিবারটিকে অনেক উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন। News Nation -এর মহিলা সাংবাদিক হিন্দু সংহতিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে বলেন ”Hindu Samhati – my foot”। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায় গ্রাম বাংলা থেকে আসা হিন্দু সংহতির কর্মীরা, যারা হিন্দু সংহতিকে ভালোবাসেন। তারপরেই তারা সাংবাদিকদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকরা শ্রী ঘোষ মহাশয়কে ক্ষমা চাইতে বলেন। শ্রী ঘোষ মহাশয় এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও মেরুদন্ডহীন মিডিয়ার করা অভিযোগ এবং নির্লজ্জ পুলিশের মুসলিম তোষণের জন্যে হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় আজ জেলে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s