কোচবিহারের বাংলাদেশ সীমান্তে জওয়ানকে খুন করলো পাচারকারীরা

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক জওয়ানের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হল কোচবিহারের বাংলাদেশ সীমান্তে৷ সাহেবগঞ্জ থানা এলাকায় গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁর সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত৷ জওয়ানের দেহে গুলির ক্ষতচিহ্ন মিলেছে৷ আদতে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও -এর বাসিন্দা বিএসএফের ৪২ ব্যাটেলিয়নের জওয়ান অরবিন্দ কুমারের (২৫ ) মৃত্যুর পিছনে গোরুপাচারকারীদের হাত আছে বলে পুলিশের অনুমান৷ তবে নৃশংস ভাবে খুন কার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা৷ কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন , ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে৷ সেগুলি খতিয়ে দেখলে কারণ স্পষ্ট হবে৷ পাচারকারীদের পাশাপাশি এর পিছনে অন্য কোনও বিবাদ আছে কি না , তা-ও দেখা হচ্ছে৷ ’ দিনহাটা -২ নম্বর ব্লকে সাহেবগঞ্জের কাছে দুর্গানগর সীমান্ত চৌকি এলাকায় বুধবার রাতে আচমকা গুলির শব্দ শুনে সেখানে ছুটে গিয়ে অরবিন্দের দেহ দেখতে পান সেখানে নিযুক্ত অন্য জওয়ানরা৷ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান বিএসএফের কোচবিহার সেক্টরের ডিআইজি সি এল বেলওয়া৷ বৃহস্পতিবার সকালে কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডি দিব্বা , দিনহাটার এসডিপিও কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় , দিনহাটা -২ নম্বর ব্লকের বিডিও অমর্ত্য দেবনাথ -সহ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন৷ পুলিশ সুপার সেখানেই উপস্থিত বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ ঘটনাস্থল দড়ি দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়৷ জওয়ানের দেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়৷ কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত , পুলিশ সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না -পারলেও সাহেবগঞ্জ -সহ দিনহাটার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারত -বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে যুক্তরাই যে এর পিছনে আছে , সে সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংশয় নেই৷ ওই সীমান্ত দিয়ে মূলত গোরুর চোরাচালান হয়ে থাকে৷ শীতে কুয়াশার আড়ালে স্বাভাবিক ভাবেই তা বাড়ে৷ এতে প্রধান বাধা সীমান্তে টহলদার বিএসএফ জওয়ানরা৷ তাঁদের সঙ্গে অতীতেও দুষ্কৃতীদের সংঘর্ষ হয়েছে৷ কিন্ত্ত এক বিএসএফ জওয়ানকে এ ভাবে হাত -পা বেঁধে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাঁকেই খুন করার ঘটনা নজিরবিহীন৷ জওয়ানের দেহের পাশে রাইফেল ছাড়াও তাঁর ওয়াকিটকি ও একটি দা উদ্ধার হয়েছে৷ যে জায়গায় অরবিন্দ দায়িত্বে ছিলেন , সেখান থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে দেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ তাঁর গলাতেও আঘাতের চিহ্ন মেলে৷ একটি সূত্রের দাবি , পাচারকারীরা মারধর করতে করতে তুলে নিয়ে যায় ওই জওয়ানকে৷ কী করে সেই ঘটনা আশপাশে নজরদারির দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের চোখ এড়িয়ে গেল , সে প্রশ্ন উঠেছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই এতে গাফিলতির অভিযোগও উঠছে৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s