চট্টগ্রামে ডাকাতি ও একই পরিবারের চার হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণ মুসলিম দুষ্কৃতীদের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শাহমিরপুর এলাকার এক হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি ও চার হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত ২৭শে ডিসেম্বর, ওই হিন্দুবাড়িতে ডাকাতদল ঢোকে। গত ২রা ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া জবানবন্দিতে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের ওই আসামি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে নিজে ধর্ষণ করেনি বলে দাবি করেছে। মিজানুর বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা এলাকার বাসিন্দা। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন জড়িত বলে তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে মিজানুরসহ চারজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্য একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মিজানুরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় মোট পাঁচজন জড়িত। তাদের মধ্যে আবু সামা নামের একজন স্থানীয়। বাকি চারজন অন্য জেলার। মিজানুর তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করতে পারলেও একজনের পরিচয় আদালতে প্রকাশ করতে পারেনি। মিজানুরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তাদের প্রবাসীদের বাড়ি দেখিয়ে দিয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দা আবু সামা। বাড়িটি পাকা এবং চারপাশ থেকে সীমানাপ্রাচীর থাকায় ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। পরে তারা একটি বাঁশের সাহায্যে সীমানাপ্রাচীর পার হয়ে ভেতরে ঢোকে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে কেউ থাকেন না বলে তাদের আগে থেকেই জানিয়েছিল আবু সামা। ওই কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চারজন। চারজন ভেতরে প্রবেশ করলেও আবু সামা বাইরে ছিল। ভেতরে গিয়ে মিজানুরসহ তার অন্য একজন সহযোগী একটি কক্ষে প্রবেশ করে। ওই কক্ষে দুজন নারী ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা প্রথমেই দুই নারীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারপর গয়না, টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। এ সময় তাদের সহযোগী ইলিয়াছ ও মজিদুল দুই নারীকে পাশের রুমে নিয়ে যায়। এ সময় নারীদের মারধরও করা হয়। ইলিয়াছ ও মজিদুল দু’জন নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে মিজানুর শুনেছে বলে আদালতের কাছে দাবি করে। তবে নিজে ধর্ষণ করেছে এমন কথা সরাসরি স্বীকার করেনি। মিজানুর স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করে, পাশের রুমে দুই নারীকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা কক্ষ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল নিয়েছিল। মিজানুর ওই বাসা থেকে ৯০ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ ও পাঁচটি মোবাইল লুটের কথা তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ চাকমার কাছে স্বীকার করেছে। এর মধ্যে নিজের ভাগে ১৩ হাজার টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s