আসানসোলে বালি মাফিয়া সৈয়দ কিরণের কীর্তি -বিএলএলআরও সহ ৫জনকে বেধড়ক মার

গত ২৭শে ডিসেম্বর, বুধবার কাঁকসার বনকাঠি পঞ্চায়েতের সাতকাহনিয়ায় অজয় নদের অবৈধ বালিঘাটে অভিযানে যাওয়ায় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক সহ মোট পাঁচজন সরকারি কর্তাকে মাটিতে ফেলে পেটাল মাফিয়ারা। তাঁদের বেশ কিছুটা তাড়া করে দফায়-দফায় লাঠি, রড দিয়ে মারধর করা হয়। সরকারি গাড়িতেও মাফিয়ারা ভাঙচুর চালিয়েছে। গাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়। হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার পর তাঁরা রেহাই পান। সেখান থেকে কোনও রকমে বনকাঠি পঞ্চায়েতে এসে তাঁরা নিজেদের রক্ষা করেন।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল ও কাঁকসা থানার মদতেই মাফিয়ারা অবৈধভাবে দেদার বালি তুলছে।সরকারি আধিকারিকদের দাবি, অনেক সময় কাঁকসা থানার পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এমনকি তাদের সঙ্গে নিয়ে গেলে মাফিয়ারা আগেই অভিযানের খবর পেয়ে যায়। সেকারণেই এদিন পুলিশ ছাড়াই সরকারি আধিকারিকরা অভিযানে গিয়েছিলেন।

এডিসিপি অভিষেক মোদি বলেন, ‘‘দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা যখনই আমাদের সহযোগিতা চায় তখনই পুলিশ পাঠানো হয়।’’ বাসিন্দারা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনই এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত। তাদের মধ্যে সৈয়দ কিরণ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে এলাকা দাপিয়ে বেড়ায়। কাঁকসার তৃণমূল নেতা দেবদাস বক্সী বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।

কাঁকসার বিএলএলআরও সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা ঘাটে গিয়ে দেখি ট্রাকে বালি তোলা হচ্ছে। সেখানে যেতেই প্রথমে পাঁচ-ছ’জন আমাদের ঘিরে ধরে। ওদের হাতে লাঠি, রড ছিল। কোনও কথা বলার আগেই মারধর করতে থাকে।কিছুক্ষণের মধ্যে আরও ২০-২২ জন চলে আসে। তাদের কারও কারও হাতে বঁটি ছিল। প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে ওরা তাড়া করে মারে। বেশ কিছুক্ষণ মাটিতে ফেলে মারধর করার পর হাতজোড় করে রেহাই পাই।’’ দুর্গাপুরের এসডিএলএলআরও সুনীল চৌধুরী বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএলএলআরও, দুই রেভিনিউ অফিসার এবং আরও দুই আধিকারিককে ওরা বেধড়ক মেরেছে। মাফিয়ারা অবৈধভাবে বালি তুলছিল। সে খবর পেয়ে বিএলএলআরও অভিযানে গিয়েছিলেন।’’ দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক শঙ্খ সাঁতরা বলেন, ‘‘প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে। অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করতে ফের অভিযান চালানো হবে।’’

প্রসঙ্গত, এর আগেও অবৈধ বালিঘাটে অভিযান চালানোয় মাফিয়ারা কাঁকসার বিডিওকে আবাসনে ঢুকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। সেবারও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। সে কারণে বেশ কিছুদিন অভিযান বন্ধ ছিল। প্রশাসন ফের অভিযোনে নামতে মাফিয়ারাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁকসা ব্লক জুড়েই বালি মাফিয়াদের দাপট রয়েছে। অজয়ের বিভিন্ন ঘাটে মাফিয়ারা মেশিনের সাহায্যে বালি তুলছে। দিনের বেলাতে ট্রাকে তা পাচার হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s