একাধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কই কাল হয়েছিল ট্রেজারি অফিসারের, দাবি পুলিশের

অন্যের হিন্দু স্ত্রীকে প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে ট্রেজারি অফিসার নাদির শাহ(২৭) বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন। এরপরেও একাধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়াই তাঁর কাল হয়েছে। জলপাইগুড়ির ট্রেজারি অফিসার খুনের মামলার তদন্তে নেমে এমন চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য পুলিশের হাতে উঠে এসেছে। বুধবার তদন্তে আসেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‘এটি খুন না আত্মহত্যা তা নিয়ে ফরেন্সিক দলের প্রতিনিধিরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। তাঁরা জানিয়েছেন এটা আত্মহত্যাও হতে পারে, খুনও হতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।’’ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ রাজীব প্রসাদ বলেন, ‘‘শীঘ্রই এ বিষয়ে আমরা পুলিশকে রিপোর্ট জানিয়ে দেব। তদন্তের কাজে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন মৃতের স্ত্রী রাখী শাহ।’’
তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, ‘‘একাধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের চাপ সামাল দিতে না পেরে ওই অফিসার আত্মহত্যা করতে পারেন। পাশাপাশি খুনের অভিযোগের স্বপক্ষে এখনও কোনও তথ্য প্রমাণ উঠে না এলেও ঘটনায় তৃতীয় কোনও ব্যক্তির যোগের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা মৃত অফিসারের সরকারি আবাসনে গিয়ে ঘণ্টা খানেক ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। ওই আবাসন থেকে তাঁরা চারটি মোবাইল ফোন, একটি বঁটি ও ওড়না বাজেয়াপ্ত করেছেন। মৃতের স্ত্রীকে নিয়ে এদিন পুলিশ ও ফরেন্সিক দল ঘটনার পুনর্নিমাণ করে তদন্ত করেছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে শহরের রাজবাড়িপাড়ায় সরকারি আবাসন থেকে ট্রেজারি অফিসার নাদির সাহেবের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শোওয়ার ঘরেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে স্ত্রী রাখী শাহের দাবি। তিনি বঁটি দিয়ে ফাঁস কেটে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ঘটনার দু’দিন পর মৃতের বাবা কারও নাম না করে কোতোয়ালি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এরপর আবাসনটি সিল করে তদন্ত শুরু করে। আবাসনের অন্য বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পরস্পরকে সন্দেহ করত ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে ওই পুলিশ অফিসারের একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানিয়েছেন, ‘‘নাদির শাহের স্ত্রী রাখী এর আগে অন্যত্র বিয়ে করেছিলেন। পরে ফেসবুকে নাদির শাহের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। সেখান থেকেই প্রেম এবং বিয়ে। এরপরেও ওই ব্যক্তি একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর স্ত্রী এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো।’’ আইসি আরও বলেন, স্ত্রী জেরায় জানিয়েছেন, কলকাতার এক মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর ঘনিষ্ঠতা এতটাই বেশি ছিল সেই মহিলা সংসার ছাড়ার জন্য তাঁর স্বামীকে নিয়মিত চাপ দিত। ইদানীং ময়নাগুড়ির এক যুবতীর সঙ্গেও ওই অফিসারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। নিজেকে অবিবাহিত বলে ওই যুবতীকে বিয়ের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। এরকম আরও কয়েকটি অবৈধ সম্পর্কের বিষয় তদন্তে উঠে এসেছে। তবে অফিসারের মোবাইল থেকে আরও বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে পুলিশ আধিকারিকরা আশা করছেন। পুলিশ মৃতের স্ত্রী ছাড়াও অভিযোগকারী বাবাকে কোতোয়ালি থানায় তলব করলেও এখনও তিনি আসেননি। পুলিশ জানিয়েছে, অফিসারের স্ত্রী তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা করছেন। তবে ঘটনায় তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s