কাঁটাতার নেই, চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে

কুচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র সহ পার্শ্ববর্তী ধরলা নদী সংলগ্ন কাঁটাতারহীন সীমান্ত চোরাকারবারিদের করিডরে পরিণত হয়েছে। প্রায় দু’কিমি ধরলা নদী তীরবর্তী এলাকা উন্মুক্ত থাকার কারণে ওই অংশ দিয়ে গোরু পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শীত পড়ে যাওয়ায় চোরাকারবারীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাত বাড়তেই ফাঁকা সীমান্ত এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে দু’জন সোনা পাচারকারীকে শুল্ক দপ্তর গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়ও বেশকিছু গোরুও বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হয়েছে। যদিও বিএসএফের কর্তাদের দাবি, সীমান্তে কড়া প্রহরা রয়েছে। কুয়াশার কারণে খানিকটা সমস্যা হয়েছে।

বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের ডিআইজি ভিএস পাতিয়াল বলেন, “কুয়াশা বেশি থাকায় এখন পাচারকারীরা গোরু পাচারের চেষ্টা করছে। তবে জওয়ানরা সজাগ আছে। আমরা প্রায়ই গোরু উদ্ধার করছি।” মেখলিগঞ্জের এসডিপিও অভিষেক রায় বলেন, “চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার জন্য আমরা বাড়তি নজর রাখছি। বিশেষ করে শীতের জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

বিভিন্ন মহল থেকেই চ্যাংরাবান্ধায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নত করার দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনও কাজই করছে না। পরিকাঠামোর অভাবের সুযোগ নিয়ে এখানে পাচারকারীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত এক মাসের মধ্যে চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দু’জন সোনা পাচারকারীকে শুল্কদপ্তরের কর্তারা গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে এক ব্যক্তি কোচবিহার শহরের বাসিন্দা অন্য জন দিল্লির বাসিন্দা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় আন্তর্জাতিক পাচারকারীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দু’জন পাচারকারী ধরা পড়ার পর প্রশাসন চিন্তায় পড়েছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট যাওয়ার রাস্তাসহ সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিতে পুলিশ বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে।

চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সংলগ্ন ধরলা নদীর প্রায় দু’কিলোমিটার কাঁটাতারহীন এলাকাই এখন জেলা পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই এলাকাতেই একটি নিষিদ্ধপল্লি আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দিনই সন্ধ্যার পর নিষিদ্ধপল্লিতে সমাজ বিরোধীরা আড্ডা জমায়। বিএসএফ এবং পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এরা সীমান্তে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন, শীতের রাতে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে এক দল পাচারকারী প্রায় দিনই গোরু পাচার করে। নদী তীরবর্তী এই এলাকায় বহু দিন আগেই কাঁটাতার দেওয়ার দাবি উঠলেও তা এখনও পর্যন্ত উন্মুক্তই রয়েছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s