কোলকাতায় ধৃত ‘আনসারুল্লা বাংলা টিম’-এর দুই জিহাদি, ব্যবহার করছিলো হিন্দু নামও

kolkatay dhrito ansarullah bangla teamআল কায়েদার শাখা সংগঠন ‘আনসারউল্লা বাংলা টিম’ এই রাজ্যকে ঘাঁটি করে শাখা বিস্তার করতে চাইছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তার দায়িত্বে ছিল বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সামসেদ মিঞাঁ ওরফে তনবীর। এরাজ্য সহ সীমান্তের ওপারে নাশকতার পরিকল্পনাও তার নেতৃত্বে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই তনবীরকে কলকাতা স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করলেন কলকাতা পুলিশের এসটিএফের কর্তারা। একইসঙ্গে ধরা হয়েছে তনবীরের সঙ্গী রিয়াজুল ইসলাম এবং বসিরহাটের খোলাপোঁতার বাসিন্দা মনোতোষ দে কে। উদ্ধার হয়েছে ভোটার কার্ড, জাল আধার কার্ড, ল্যাপটপ, বিস্ফোরক তৈরির বই, আল কায়েদার ম্যাগাজিন সহ বিভিন্ন সামগ্রী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালবাজারে সাংবাদিক সম্মেলন করে এদের গ্রেপ্তারির খবর জানান ডিসি (এসটিএফ) মুরলীধর শর্মা। তিনি বলেন, তনবীর এবং রিয়াজুল যে জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত, তা তারা স্বীকার করেছে। অস্ত্র কেনার মাধ্যমেই তনবীরের যোগাযোগ মনোতোষের সঙ্গে।

মাস দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাদের কাছে খবর আসে, সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এসেছে ‘আনসারউল্লা বাংলা টিম’-এর অন্যতম মাথা তনবীর ও তার এক সঙ্গী। উত্তর ২৪ পরগনার এক আগ্নেয়াস্ত্র কারবারির সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে। তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি এসটিএফকে জানানো হয়। তার ভিত্তিতে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, বসিরহাটের বাসিন্দা মনোতোষ বেআইনি অস্ত্রের কারবারী। তার কাছেই যাতায়াত রয়েছে তনবীরের। সেখান থেকেই কয়েকবার অস্ত্র কিনে সে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছে।

পুলিশ খবর পায়, রাজ্যে চলা জিহাদি প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রয়োজনে অস্ত্র কেনার জন্য নমুনা দেখতে তনবীর আসবে মনোতোষের কাছে। কলকাতা স্টেশন এলাকায় তারা দেখা করবে। সেই মতো স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, অর্থাৎ এসটিএফের টিম সেখানে হানা দিয়ে তনবীরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। মনোতোষের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। যা নমুনা হিসাবে আনা হয়েছিল।

তদন্তে জানা যাচ্ছে, পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তনবীর বাংলাদেশে একাধিক ব্লগার খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত। বাংলাদেশে ধরপাকড় শুরু হওয়ায় সে ও তার এক সঙ্গী বছর দেড়েক আগে এদেশে পালিয়ে আসে। নতুন করে কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সে আগ্নেয়াস্ত্র জড়ো করছিল। জামাতের সংগঠন এদেশে দুর্বল হয়ে পড়ায়, ‘আনসারউল্লা বাংলা টিম’ এরাজ্য সহ ভারতে নিজেদের সংগঠন বিস্তারে উদ্যেগী হয়। তনবীরকে নতুন দায়িত্ব দিয়েই এখানে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, একদিকে নতুন জিহাদি নিয়োগ করে সংগঠন বাড়ানো, অন্যদিকে নাশকতা ঘটিয়ে এদেশে তাদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করেছিল। এদেশে এসে তনবীর নাম বদলে হয় তুষার বিশ্বাস ও রিয়াজুল হয় সুমন। তনবীর ভুয়ো আধার কার্ড ও প্যান কার্ড তৈরি করে ফেলে। যা দিয়ে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টও খুলে বসে অভিযুক্তরা। গোয়েন্দারা ধৃতদের জেরা করে জেনেছেন, সীমান্ত লাগোয়া কিছু এলাকায় আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ চলছে। বিস্ফোরক তৈরি শেখাচ্ছে তনবীর। এরাজ্যের যুবকরা ছাড়া বাংলাদেশ থেকেও জিহাদিরা আসছে। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোপনে আইইডি তৈরি করা হচ্ছে।

যে সমস্ত বিস্ফোরক তৈরির কারখানা করা হয়েছে, সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক পৌঁছে দিচ্ছে তনবীর। যা আনা হচ্ছে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে। আইইডির মাধ্যমেই বেশ কয়েকটি জায়গা উড়িয়ে দেওয়ার ছক করেছিল তারা।

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s